এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৩ মার্চ : আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহে ইরানে ১৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-কেন্দ্রিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ । সংস্থাটি রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা অন্তত ১,৪০৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২১৪ জন শিশু রয়েছে। যদিও পরিসংখ্যানগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি । সংস্থাটি বলেছে, এই সংখ্যাগুলো দেশজুড়ে নথিভুক্ত ঘটনা এবং সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ের সূত্রের নেটওয়ার্ক, স্থানীয় যোগাযোগ এবং ছবি ও ভিডিওর মতো জনসমক্ষে উপলব্ধ প্রমাণের মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে। উল্লেখ্য,এইচআরএএনএ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মী ও গবেষকদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করে আসছে।
ওয়াশিংটনের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানি বাহিনী জনবহুল এলাকা থেকে ক্রমবর্ধমানভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রবিবার ইরান ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র চাইলে যেকোনো সময় এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে।
এইচআরএএনএ-র প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অংশ ঘটেছে তেহরান প্রদেশে, যেখানে প্রায় ৩৯ শতাংশ হামলা হয়েছে; এর পরেই রয়েছে পারস্য উপসাগরের উপকূলবর্তী হরমোজগান প্রদেশ। সংস্থাটি আরও ৬৫৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যাদের পরিচয়—সামরিক না বেসামরিক—এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ২১০ জন শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এই লড়াইয়ের সময় ৩০০টি স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এইচআরএএনএ-এর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন দ্বারা সুরক্ষিত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক ভবন, ক্রীড়া কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের পরিবর্তে কাছাকাছি ঘটা আঘাত বা তার পরোক্ষ প্রভাবের কারণে ক্ষতিটি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ চলমান সংঘাত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।।
