এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ এপ্রিল : কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার ঘটনার মূল উসকানিদাতা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের পিছনে বিজেপির হাত আছে বলে দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি । পালটা মমতার সভামঞ্চে মমতার পিছনে মোফাক্কেরুল ইসলামের উপস্থিতির একটা ছবি পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘মূল চক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা রচিত ।’
আজ মমতা নির্বাচনী মঞ্চ থেকে বলেন, ‘মোথাবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছে, যে করেছে তাকে হাতেনাতে কে ধরেছে জানেন ? আমাদের সিআইডি। অর্থাৎ লোকাল পুলিশ নয় । বাগডোগরা দিয়ে পালাচ্ছিল । মুম্বাই থেকে এসেছিল…মুম্বাই থেকে বিজেপি ধার করে মিম-কে নিয়ে এসেছে । আই এস এফ ওদের সাথে । কংগ্রেসের উসকানি আছে । আর বিজেপিরও উস্কানি আছে।’
এদিকে মমতার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন শুভেন্দু । সেই ভিডিওতে মমতার সভামঞ্চে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা তেমোফাক্কেরুল ইসলামের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি । পাশাপাশি শুভেন্দু শেয়ার করা একাধিক ছবি সম্মিলিত একটি ভিডিও ক্লিপে কল্যান ব্যানার্জি থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তেমোফাক্কেরুলকে দেখা গেছে ।
বিরোধী দলনেতা প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,’বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট – মালদহ জেলায় জুডিশিয়াল অফিসার তথা সম্মানীয় বিচারপতিদের (মহিলা বিচারপতি সহ) ওপর যে ঘৃণ্য প্রাণঘাতী আক্রমণ এক শ্রেণীর মানুষ করেছে, তার মূল চক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা রচিত। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বিচারপতিদের হেনস্থা হতে হলো তা তো নয়, বারংবার তৃণমূল বিচারপতিদের নিশানা করেছে – কখনো এজলাসে ঢুকতে বাধা দিয়েছে, এজলাসের মধ্যে স্লোগান তুলেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধাদান করেছে, কখনো তৃণমূলের মুখপাত্ররা কুরুচিকর ভাষায় বিভিন্ন বিশেষণ যোগে আক্রমণ শানিয়েছে, তো কখনো বাড়ির সামনে পোস্টার লাগিয়েছে। হুমকি ধমকি চমকানো ইত্যাদি তো প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে।’
তিনি লিখেছেন,’এখনো পর্যন্ত যে জনৈক মোফাক্কেরুল কে উস্কানি দাতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তার গায়ে বিভিন্ন তকমা সেঁটে দিতে উদ্যত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে নাকি বিজেপির চক্রান্ত সফল করতে মহারাষ্ট্র থেকে এসেছে ইত্যাদি মিথ্যার ফুলঝুড়ি আওড়াচ্ছেন মাননীয়া। কিন্তু প্রকৃত সত্য তো জানা যাচ্ছে যে এই ব্যক্তি তৃণমূলের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত, তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করে এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মঞ্চ আলো করে দাঁড়িয়ে রয়েছে !!! আমি আগেও বলেছি আবারো বলছি মালদার ঘটনা সম্পূর্ণ তৃণমূল দ্বারা পরিকল্পিত ও পরিচালিত।’
প্রসঙ্গত,ভোটার তালিকায় নাম “ডিলিটেড” হয়ে যাওয়ায় বুধবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মালদার মোথাবাড়িতে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে আটকে রাখে প্রচুর লোকজন । এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ বিচারকদের উদ্ধার করলেও তাদের গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে খোদ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে । এই হিংসার ঘটনার মূল উসকানিদাতা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে আজ শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি । গ্রেপ্তার হয়েছে তার এক সঙ্গীও। এযাবৎ এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ৩৫ জন৷
তবে মমতা যাই দাবি করুন না কেন,কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে দায়ি করেছে সুপ্রিম কোর্ট । সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার-কাম-পিএ সনীতিন তালরেজা এবং সহকারী রেজিস্ট্রার প্রীতি টি.সি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বয়ানে বলা হয়েছে, কর্তব্যরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়েছিল । আরও বলা হয়েছে, মালদহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এটি বেসামরিক ও পুলিশ প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতাকেই প্রতিফলিত করে। মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক, কালেক্টর এবং পুলিশ সুপারের কার্যকলাপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত । এছাড়াও, মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক, মালদহের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মালদহের পুলিশ সুপারকেও কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ।।
