প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৯ মার্চ : “মমতা ব্যানার্জির খিচুড়ি পাকানো অভ্যাস,মে মাসের পর কালীঘাটে খিচুড়ি পাকাতে হবে বলে অভ্যাস করছেন”-বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ । আসলে,এসআইআর-এর বিরোধিতায় কলকাতার ধর্মতলায় ধর্ণা কর্মসূচি পালন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তারই মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র সরকার । আর এটাকেও ইস্যু করে উনান,হাঁড়ি,থালা, হাতা-খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ দেখান মমতা ব্যানার্জি ও তার প্রমিলাবাহিনী । তার এই প্রতিবাদকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কাল তো দেখেছেন, ধর্মতলায় বিনা চাল,ডাল ,আলু ও আগুন ছাড়া রান্না করছিলেন।খিচুড়ি পাকাচ্ছিলেন।সব জায়গায় খিচুড়ি পাকানো অভ্যাস। আমার মনে হয় মে মাসের পর থেকে সেই আবার কালীঘাটেই খিচুড়ি পাকাবন,তার প্র্যাকটিস করছিলেন।’
আজ সোমবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের পরিবর্তন যাত্রা সভায় যোগ দেন দিলীপ ঘোষ । তার সাথে ছিলেন ভারতী ঘোষ । এসআইআর-এর বিরোধিতায় মমতার ধর্ণার তীব্র সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই সওয়াল করেন দিলীপ । মমতার ধর্ণাকে অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাঁচানোর প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি । দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা এসে ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে নিচ্ছে। লোন নিয়ে টোটো -অটো চালাচ্ছে। খাস জমি দখল করে বস্তি বানাচ্ছে। তারাই ভোটার হয়ে ভোট দিয়ে দিদিমণিকে জেতাছে । এক কোটির বেশি ’ফলস্ ভোটারের’ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন । এবার নির্বাচন কমিশন হাওয়া দিয়ে ধানের আগরির মতো ফলস্ ভোটারদের উড়িয়ে দিয়েছে।এক কোটি ভোট মাইনাস হলে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগে থেকে উনি ধর্মতলায় ধর্ণায় বসে পড়েছেন ।’ তিনি আরও বলেন,’দিদিমণি আজ যেমন ধর্ণা দিচ্ছেন ’মে’ মাসের পর আবার ধর্ণায় বসবেন।’
রাজ্য সরকারের লক্ষীর ভান্ডার এবং যুব সাথী প্রকল্প,ডিএ নিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন কটাক্ষ করে বলেন, ‘দিদিমণি রাজ্যের কর্মচারীদের ডি-এ দিতে পারেন না। কর্মচারীরা কোর্টে গিয়েছিলেন। কোর্ট বলে দিয়েছে ডি-এ দিতে হবে। দিদিমনির সুপ্রিম কোর্টে চলে গেছেন। কর্মচারীদের পেটে লাথি মেরে সেই টাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার করছেন। মা বোনেদের বলবো, লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে নিয়ে বিজেপিকে ভোট দিন। যে যুবকদের ভাতা দেবে বলছে নিয়ে নিন।খালি বিজেপি কে ভোটাটা দিন। কারন আগামী ভবিষ্যৎ বিজেপি তৈরি করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে কেবল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। আপনার ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে না। তাই পরিবর্তন চাই। যে পরিবর্তনে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে হাঁটবে।’
বিজেপি কেন পরিবর্তন যাত্রা শুরু করেছে , তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ’আমরা পরিবর্তন চাই মানে ,আমাদের ছেলেরা মেয়েরা গুজরাট, মহারাষ্ট্র ,মুম্বাই না গিয়ে পশ্চিমবাংলায় থাকবে। ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। চাকরি বাকরি করবে। বয়স্ক বাবা-মা ও ছেলে মেয়েকে দেখবে। এখানেই তারা থাকবে। আমরা চাইব না আমাদের বাড়ির সামনে নদীর বালি খালি হয়ে যাক। আমরা চাই না আমাদের জঙ্গলের কাঠ খালি হয়ে যাক। আমাদের বাড়ির নিচের কয়লার খনি খালি হয়ে যাক। মায়ের কোল খালি হয়ে যাক। আমরা চাইনা আমাদের ছেলে মেয়েদের চাকরি বিক্রি হোক। আমরা চাইনা কেন্দ্রের পাঠানোর রেশন চুরি হয়ে যাক,মিড ডে মিল চুরি হয়ে যাক। আবাস যোজনা ও শৌচালয়ের টাকা চুরি হয়ে যাক। এখানকার ৫০ লক্ষ ছেলে মেয়ে বাংলার বাইরে কাজ করতে গেছে। আমরা চাইনা আমাদের ছেলেমেয়েরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে চলে যাক।’
দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন,’আমরা চাই আমাদের গ্রামের স্কুলে মাস্টার আসুক। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করুক। খালি মিড -ডে মিল খেয়ে ছেলেমেয়েরা বাড়ি ফিরে আসবে এটা হবে না। স্কুলে টিচার আসবে পড়াশুনাও হবে। আমরা চাই আমাদের এলাকার হাসপাতালে ডাক্তার থাকুক। যাতে ভেলোর চেন্নাই মুম্বাই বা কলকাতায় জেতে না হয়। এখানেই চিকিৎসার সুবিধা পাবো। আমরা চাই আমাদের এলাকার থানায় পুলিশ থাকবে। কেবল সিভিক পুলিশ দিয়ে বালির গাড়ি থেকে টাকা তুলবে, এইরকম শিবির পুলিশ চাইনা। আমরা থানায় যে পুলিশ চাই তারা আমাদের সুরক্ষা দেবে। আমাদের কমপ্লেন নেবে। আমরা চাই আমাদের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তা হোক, ড্রেন হোক, আলো জ্বলুক। বাড়ির সামনে শুদ্ধ পানিও জল আসুক। তার জন্য মোদীজি টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা চাই আমাদের বাড়ির মেয়েরা রাস্তায় ,বাজারে বা স্কুল-কলেজে নিশ্চিন্তে যাক। স্কুল-কলেজে গিয়ে বা টিউশনি পড়ে মেয়েরা নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরুক।মেয়েরা স্কুল গেলে ,টিউশন পড়তে গেলে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি, টেনশনে থাকি, আদৌ মেয়ে আর বাড়ি ফিরবে কিনা! বাংলার গ্রাম গঞ্জের হাজার হাজার মেয়ে চুরি হয়ে যাচ্ছে ,গায়েব হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত নেয় না ।’।
