এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৯ ফেব্রুয়ারী : সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোট । রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে ছোটো খাটো কোনো ইস্যুই ছাড়তে চাইছেন না । আর সেই ইস্যু খুঁজতে শাসক- বিরোধী নেতারা একে অপরের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টে শ্যেন দৃষ্টি রাখছেন সর্বদা ৷ ছোটো-ছোটো কোনো খুঁত দেখলেই সেটাকে ইস্যু করে বাজার গরম করার চেষ্টা করছেন । আজ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধাঞ্জলি পোস্টকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এমনই কান্ড ঘটালেন বলে অভিযোগ । পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ‘স্বামী’ শব্দ প্রয়োগ করায় “বাংলার মনীষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা”র অভিযোগ তুলে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
১৮৩৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যুগপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ৷ গতকাল তাঁর ১৯০ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয় । বাংলার ওই মহাপুরুষকে তাঁর জন্মজয়ন্তীর দিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি পোস্টে নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ লিখেছেন,”স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি যেভাবে আধ্যাত্মিকতা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনকে জীবনীশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা প্রতিটি যুগে মানবতার কল্যাণে অব্যাহত থাকবে। তাঁর সৎ চিন্তাভাবনা এবং বার্তা সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
কিন্তু তার “স্বামী” শব্দ প্রয়োগে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি । তিনি পালটা একটা পোস্টে লিখেছেন,”আমি আবারও স্তম্ভিত! বারবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে। বাংলার মনীষীদের প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা, অসংবেদনশীলতা, আজ তা আবার প্রকট হলো।” তিনি লিখেছেন, “আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পুণ্য লগ্নে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটা অশ্রুতপূর্ব, অপ্রযোজ্য তকমা জুড়ে দিলেন— ‘স্বামী’! সবাই জানেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন তৈরি করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি বসে।
মমতা লিখেছেন,”কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী – ঠাকুর-মা-স্বামীজি – সেখানেও তিনি ঠাকুর; মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ হলেন ‘স্বামীজি’। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।”
প্রসঙ্গত,আসন্ন বিধানসভার ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে । রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিক বানিয়ে রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটানোর অভিযোগে তৃণমূলকে অভিযুক্ত করছে বিজেপি । আর তারা একাজে অনেকাংশেই সফলও । এদিকে হুমায়ুন কবিরের উত্থান এবং এবারের ভোটে আসাউদ্দিন ওয়াইসির এন্ট্রি শাসকদলের মুসলিম ভোটব্যাংকে বড়সড় ধ্বস নামাতে চলেছে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে । এমতবস্থায় মহা ফাঁপড়ে পড়েছেন স্বঘোষিত “ধর্মনিরপেক্ষ” মমতা ব্যানার্জি । তাই হিন্দু ভোটব্যাংক ধরে রাখতে তিনি এখন সফট হিন্দুত্বকে সামনে রেখে চলছেন । যেকারণে এবারের রমজান মাসের শুভেচ্ছা পোস্টে তাকে মাথা থেকে শুভেচ্ছা দিতে দেখা যায়নি । বরঞ্চ হাতজোড় করে তার একটি ছবি পোস্টে সংযুক্ত করা হয়েছে ।।

