এইদিন ওয়েবডেস্ক,পুরুলিয়া,২৯ মার্চ : শনিবার কলকাতার একটি হোটেলে বসে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ৩২ পাতার একটা ‘চার্জশিট’ পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ সেই সাথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভোটের মরশুমে মুখ্যমন্ত্রীর বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন তোলেন তিনি ৷ মমতার এই ‘ব্যান্ডেজ রাজনীতি’ কে তিনি ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার পদ্ধতি বলে কটাক্ষ করেন শাহ । আর তার এই মন্তব্যে বেজায় চটেছেন মমতা । গত বিধানসভার ভোটে পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে প্রচার করতে হওয়ায় বিজেপিকেই তিনি অভিযুক্ত করেন । বিজেপির বিরুদ্ধে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আহত করার অভিযোগ তুলে ফের তাকে ‘প্রাণে মারার প্ল্যান হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি ৷
শনিবার অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, মমতা ব্যানার্জির মধ্যে যখনই ভোটে খারাপ ফলাফল হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয় তখনই তিনি কখনও পা ভাঙেন, কখনও মাথায় পট্টি বাঁধেন বা অসুস্থ হয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর দোষারোপ করেন। আজ রবিবার পুরুলিয়া জেলার মানবাজারে নির্বাচনী জনসভায় অমিত শাহের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান মমতা ব্যানার্জি,’বলছে আমি নাকি ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরে বেড়াই। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার লড়াই করে ফিরে এসেছি। আগের বার ভোটে তোমরা ইচ্ছে করে আমার পায়ে চোট করে দিয়েছিলে । মনের জোর ছিল বলে প্লাস্টার নিয়েও হুইল চেয়ারে ঘুরেছি।’ এরই সঙ্গে তিনি দাবি করেন,’আবার কি মারার প্ল্যান করছ নাকি? কেউ কারও চরিত্র হননের আগে পরিকল্পনা করে, এবারও কি তেমন কিছু?’
উল্লেখ্য,কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি বারবার অভিযোগ করে যে মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমদের এরাজ্যে অনুপ্রবেশ করতে মদত দিচ্ছে এবং রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিচ্ছেন । যেকারণে
বিএসএফ-কে উন্মুক্ত বাংলাদেশে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৫৪০ কিলোমিটার এলাকায় তিনি জমি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিজেপির ৷ গতকাল অমিত শাহ এটাও অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি শাসিত আসামে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা ঢুকে দেশ জুড়ে চাড়িয়ে যাচ্ছে এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।
আজ এর জবাবে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন,’বলছে আমরা নাকি ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করে দিয়েছি। আমরা ক্ষমতায় এসেছি ২০১১-র মে মাসে। অথচ ওরা বলছে ২০০২ থেকে ২০১১-র মধ্যে নাকি এই বদল হয়েছে। এই ডাহা মিথ্যে কথা মানুষই বুঝে নিক ।’।
