এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ এপ্রিল : রাজ্যে বিধানসভার ভোট আর হাতে গোনা দিনে ঠেকেছে । প্রথম দফার ভোট ২৩ শে এপ্রিল । এরপর ২৯ শে এপ্রিল হবে দ্বিতীয় দফার ভোট৷ ফলাফল ঘোষণা ৫ মে । এই পরিস্থিতিতে প্রচারে খামতি রাখতে চাইছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে প্রতিটি জেলায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে একাধিক সভা করছেন । তৃণমূল দাবি করছে যে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় মানুষের ঢল নামছে । কিন্তু বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়,মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি সভায় খুব বেশি হলে এক থেকে দেড় হাজার করে লোক হচ্ছে । আর তিনি সাধারণ মানুষদের আকর্ষিত করতে সভামঞ্চের ঠিক পাশেই হেলিকপ্টার নামাচ্ছেন । তিনি আরও বলেছেন,’মমতা ব্যানার্জির এই ধরনের দুর্দশা তার রাজনৈতিক জীবনে আমরা কখনো দেখিনি ।’
বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’গোটা রাজ্য জুড়ে মমতা ব্যানার্জির সভাগুলোতে এক থেকে দেড় হাজারের মতো লোক হচ্ছে । তিনি মঞ্চের পাশে হেলিকপ্টার নামাচ্ছেন, রাতে হেলিকপ্টার দেখতে ৫০০-৭০০ জন লোক আসে । তুমি এত হেলিকপ্টার চড়েছেন যে কেউ আর হেলিকপ্টার দেখতে আসছে না । আর ওনার সভাতে যে দেড় দু’হাজার লোক হচ্ছে,তার মধ্যে ৮০০ জন সরবরাহ করছে পুলিশ । সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে, ইউনিফর্ম খুলিয়ে, গেঞ্জি পরিয়ে বসাচ্ছে । মমতা ব্যানার্জির এই ধরনের দুর্দশা তার রাজনৈতিক জীবনে আমরা কখনো দেখিনি । এখন দেখতে পাচ্ছি ।’
তিনি আরও বলেন,’গত ২ তারিখে আমারসহ বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়নে হাজরা মোড় থেকে সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত শোভাযাত্রা আপনারা দেখেছেন । শোভাযাত্রায় নিশ্চয়ই বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ছিল । কিন্তু রাস্তার দু’ধারে আনাচে-কানাচে ভোটারদের উন্মাদনা বাংলা দেখেছে, আপনারাও দেখেছেন । আর আজকে চুপি চুপি ঘর থেকে বেরিয়ে স্কোয়ার ফুট কাউন্সিলরদের নিয়ে, পৌরসভার ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের জোর করে দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দৃশ্য জনগণ দেখেছে । তাই ফলাফল হয়ে গেছে । পশ্চিমবাংলার জনগণ প্রস্তুত যে এবারে তারা পাল্টে দেবে । তাই আওয়াজ উঠেছে পাল্টানো দরকার চাই বিজেপি সরকার ।’
উল্লেখ্য,আজ বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে হলদিয়ার হেলিপ্যাড ময়দানে নির্বাচনী জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর সভায় অন্তত এক লাখ জনসমাগম হবে । দলীয় নেতাকর্মীদের তো বটেই, পাশাপাশি সাধারণ মানুষদেরও প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । তিনি বলেন, ‘সমগ্র রাজ্যের আপামর জনগণ অধীর আগ্রহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন।’।
