এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ ফেব্রুয়ারী : শনিবার বিধানসভায় রাজ্যের পঞ্চায়েত আইনে সংশোধনী এনেছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার । ওই বিলে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে অনাস্থা পেশের ক্ষেত্রে তিন বছরের লক্ষণরেখা টেনে দেওয়া হয়েছে । অর্থাৎ, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছরের মধ্যে অপসারণ করা যাবে না। এদিকে রাজ্যেরবপঞ্চায়েত আইনে সংশোধনীকে ২০২৬ সালে হতে চলা বিধানসভার ভোটে তৃণমূলের সম্ভাব্য পরাজয়ের “ভয়” হিসাবে দেখছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য ।
তিনি রাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষ শনিবার প্রকাশিত “কলকাতা গেজেট”টি এক্স-এ পোস্ট করেছেন । অমিত মালব্য লিখেছেন,”২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন্ন পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে তাড়াহুড়ো করেছে। বিলটি নির্লজ্জভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান, সভাপতি এবং সভাধিপতিদের অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে অপসারণ থেকে তিন বছরের জন্য অব্যাহতি দেয়। এই হতাশা কেন?
কারণ তৃণমূল কংগ্রেস বাস্তবতা জানে। তাদের বিপুল সংখ্যক পঞ্চায়েত প্রধান দুর্নীতিতে ডুবে আছেন, এবং দলটি আশঙ্কা করছে যে রাজনৈতিক হাওয়া বদলে গেলে, তাদের অনেকেই ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাবেন। এই বিলটি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে নয়। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাঁচানো এবং অনিবার্যকে বিলম্বিত করার বিষয়ে। ২০২৬ স্পষ্টতই তৃণমূল কংগ্রেসকে তাড়া করছে।”
প্রসঙ্গত,শনিবার ছিল সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শেষ দিন। আর এ দিনই রাজ্য সরকার ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ বিধানসভায় পাশ করিয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত আইনে এত দিন আড়াই বছরের আগে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে অনাস্থা এনে অপসারণের সুযোগ ছিল না। সেই সময়সীমা শনিবার বিল (বিল নং ৯, ২০২৬) পাশ করে আরও ছ’মাস বাড়ানো হয়েছে।
‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’–এ বলা হয়েছে, পঞ্চায়েতে ‘স্টেবিলিটি’ অর্থাৎ স্থায়িত্ব বজায় রাখতে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে অপসারণ করার নিয়মের ‘অপব্যবহার’ বন্ধ করতে এবং ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতকে আরও ‘কার্যকর’ করে তুলতে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কিন্তু,বিজেপি মনে করছে যে এই বিল পেশের মধ্যে ২৬শের ভোটে সম্ভাব্য পরাজয়ের ভীতি কাজ করছে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে । যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বিজেপির এই দাবি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন যে উন্নয়নের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই তারা পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল এনেছেন । তবে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এই যুক্তি মেনে নেননি রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি তরুনজ্যোতি তিওয়ারি । তার কথায়,গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিদের ৩ বছর পর্যন্ত no-confidence motion দিয়ে সরানোর উপর লাগাম টানার উদ্যোগ আদপে “ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য নীতি বদল”৷ তিনি বলেছেন,’এটা দেখতে খুব সাধারণ একটা সংশোধনী মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা মোটেও সাধারণ নয়।সরকার বদলালে যেন সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েত না বদলে যায়—সেই “নিরাপত্তা”টাই নিশ্চিত করল তৃণমূল। পঞ্চায়েতগুলো কীভাবে দখল হয়েছিল, সেটা সবাই জানে। সেই কারণেই আগের ৬ মাসের সীমা বাড়িয়ে ৩ বছর। ক্ষমতার অঙ্কে নীতি নয়, নীতি বদলাচ্ছে ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য।শেষ পর্যন্ত একটা কথাই থেকে যায়—ভয় মারাত্মক জিনিস।’।

