কালো রঙের বোরখা পরা এক শিক্ষিকাকে কোলে তুলে আদর করছিল মাদ্রাসা সুপার । শিক্ষিকার মুখের আবরণ খুলে মুহুর্মুহু চুম্বন করছিল । মৃদু স্বরে হাসতে হাসতে সুপারের আদর উপভোগ করছিলেন শিক্ষিকা । চরম রোমান্টিক মুহুর্ত । সেই সময় পাশের ভবনের ছাদে গিয়েছিল এক ছাত্র । সে সুপার আর শিক্ষিকার প্রেমালাপের দৃশ্য দেখে ফেলে । কিন্তু প্রেমালাপের উত্তেজনার মুহুর্তে ছাত্রকে নজরে পড়েনি সুপার আর শিক্ষিকার । সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করে রাখে ছাত্রীটি । তারপর চুপিচুপি ক্লাসে ফিরে এসে সহপাঠীদের দেখালে তারা ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করার পরামর্শ দেয় । ছাত্রটি ভিডিওটি পোস্ট করতেই নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় । আর তার এই অপরাধের জন্য মাদ্রাসা সুপার তাকে বেদম পিটিয়ে দেয় । ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বাঙ্গড্ডা দারুল ফালাহ্ হামীদীয়া বালক-বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়। আহত পড়ুয়া ফয়সাল মাহমুদ (১৪)কে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে ।
জানা গেছে,প্রহৃত কিশোর নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট পশ্চিম পাড়ার মুন্সি বাড়ির প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন হামীদী মাদ্রাসাটিতে সুপারের দায়িত্বে আছেন।
জানা যায়,গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসার আবাসিক ভবনের ছাদে গিয়েছিল ফয়সালসহ তিন পড়ুয়া শিক্ষার্থী। ওই সময় ফয়সাল জানালা দিয়ে দেখতে পায় পাশের একটি ভবনে শিক্ষক নিজাম উদ্দিন হামীদী তার অফিস ঘরে এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করছেন। সে নিজের মোবাইলে সেই দৃশ্য ভিডিও রেকর্ড করে রাখে । পরের দিন বিষয়টি মাদ্রাসায় জানাজানি হলে ফয়সালকে ঘটনাটি গোপন রাখতে বলেন সুপার নিজাম উদ্দিন। কিন্ত ফয়সাল বিষয়টি গোপন না রেখে সবাইকে জানিয়ে দেয়। এতে ফয়সালের প্রতি ক্ষিপ্ত হন নিজাম। পরে মঙ্গলবার ফয়সাল অসুস্থতার কারণে ক্লাস না করে শুয়ে থাকে আবাসিক ভবনে।নিজাম পূর্বের ঘটনার জেরে ক্লাস না করার অজুহাতে ফয়সালকে বেধড়ক মারধর করেন। খবর পেয়ে ফয়সালের মা তাকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। ৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরেও ফয়সালের শরীরে মারধরের চিহ্ন স্পষ্ট।
এ বিষয়ে ফয়সালের মা হালিমা বেগম বলেন, ‘সুপার নিজামের অপকর্মের বিষয়টি আমার ছেলে আমাকে জানিয়েছে। আমি তাকে সতর্ক করি যাতে বিষয়টি গোপন রাখে। তবে বয়স কম হওয়ায় সে সবাইকে জানিয়ে দেয় এবং ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে । কিন্তু নিজাম হুজুর আমার সন্তানকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই’। স্থানীয়রা জানিয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপকর্ম করা নিজামের পেশায় পরিণত হয়েছে। নিজাম স্থানীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। নিজামের লাগামহীন অনৈতিক কাজে দিশেহারা অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন হামীদী বলেন,’অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল ছুটি না নিয়ে ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। তাকে ক্লাসে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে উচ্চস্বরে কথা বলায় তাকে বেত্রাঘাত করেছি। বেত্রাঘাতে তার শরীরে আঘাত লাগে। পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়টি সত্য নয়।’এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর কয়েক মাস কেটে গেলেও সুপারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ।।

