এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,১৭ মার্চ : জামাত ইসলামি বা হিযবুত তাহরীর (Hizb ut-Tahrir) -এর মত চরমপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীই হোক বা আলকায়দা ও আনারুল বাংলার মত কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের লক্ষ্য হল বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ ইসলামি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে শরিয়া শাসন লাগু করা ৷ মহম্মদ ইউনূসের জমানায় মাত্র এক বছরে সেই লক্ষ্যে তারা দ্রুত কাজ শুরুও করে দিয়েছিল । দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে তারা হিন্দু মেয়েদের লাভ জিহাদে ফাঁসানো থেকে শুরু করে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত ও নিকাহ করতে বাধ্য করার একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছিল । বর্তমানে দেশে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি বা বিএনপির মত আর এক ইসলামি উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী দল ক্ষমতায় রয়েছে । আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ওই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি । ফলে তাদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসাবে বাংলাদেশে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনার উদ্বেগজনক বৃদ্ধির প্রবনতা অব্যাহত রয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ যে হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ক্রমাগত ঘটলেও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় তারা নির্বাক দর্শকের মত দেখে যেতে বাধ্য হচ্ছে ।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পরিচয়ের সূত্র ধরে অনেক সময় মুসলিম যুবকেরা হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিয়ের প্রলোভন বা নানা চাপের মাধ্যমে তাদের ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন কিছু ঘটনার পর পরিবারগুলো উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানাচ্ছেন। সামাজিক সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্মান্তর বা বিয়েসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দেখা হয়। যদি জোরপূর্বক বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে । তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাইই দাবি করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধেও উঠছে প্রচ্ছন্ন মদত দেওয়ার অভিযোগ ।
হিন্দু মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার হলেও কোনো ধরনের প্রতারণা, জোরপূর্বক চাপ বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর ঘটানো আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তারা দাবি জানাচ্ছেন ।।
