এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৫ ফেব্রুয়ারী : লন্ডনের স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্টে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ২১টি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একজন মসজিদের ইমামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে, সেই সময় সাতজন ভুক্তভোগীর মধ্যে তিনজনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে । পুলিশ জানিয়েছে, ৫৪ বছর বয়সী আব্দুল হালিম খান পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদের ইমাম ছিল,সে ধর্মীয় নেতা হিসেবে তার অবস্থানের অপব্যবহার করেছিলেন।
সাতজন নারীই মুসলিম ছিলেন এবং ইমাম তাদের নির্জন স্থানে দেখা করতে বলে ধর্ষণ করে দিত । ওই পাপি ইমাম নারীদের বোঝাত যে তার জাদুকরী ক্ষমতা আছে এবং সে তাদের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে বাধা দিতে পারে । আর তার এই কথিত জাদুকরী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন কুকর্ম করে যাচ্ছিল । আদালতে ইমাম দাবি করেছে যে তার শরীরে “জিন বা অশুভ আত্মা” ঢুকে এই সমস্ত কুকাজগুলো করেছে এবং সে নিষ্পাপ ।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন,”কালো জাদুর” মাধ্যমে ইমামের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে ভুক্তভোগীরা এতটাই ভীত ছিলেন যে তারা তাদের বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে কথা বলতে সাহস পাননি ।
ইমামের কর্মকাণ্ড ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসে যখন তার সবচেয়ে ছোট ভুক্তভোগী এক শিশুকন্যা একজন শিক্ষকের কাছে ইমাম দ্বারা ধর্ষিতা হওয়ার কথা খুলে বলে । তদন্ত চলাকালীন, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেন। তাকে নয়টি ধর্ষণের অভিযোগ, চারটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ১৩ বছরের কম বয়সী একটি শিশুর উপর দুটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ১৩ বছরের কম বয়সী আরও একটি শিশুর উপর পাঁচটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং জোর করে ঘরে ঢুকে যৌন নির্যাতনের একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।।

