এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১১ এপ্রিল : সালটা ছিল ১৯৯৩… যখন বহু তারকা সমৃদ্ধ হিন্দি সিনেমার একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল। সেই যুগে মুক্তি পায় এক রাজকীয় ও শক্তিশালী সিনেমা – জেপি দত্ত পরিচালিত ‘ক্ষত্রিয়’। এই ছবিতে হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত তারকা ধর্মেন্দ্র, সুনীল দত্ত, বিনোদ খান্না, সানি দেওল এবং সঞ্জয় দত্তদের মত অভিনেতারা অভিনয় করেছেন । সেই সময়ে এমন একটি শক্তিশালী তারকা সমাবেশ নিজেই একটি বড় ঘটনা ছিল । সঙ্গত কারনে ছবিটি যে সুপাহিট হবে, এটা সকলেরই আশা ছিল । কিন্তু সম্ভাবনা থাকলেও ছবিটি বক্স অফিসে লাভের মুখ দেখেনি । আর তার জন্য একমাত্র দায়ি ছিলেন সঞ্জয় দত্ত ।
সিনেমাটির গল্প ছিল বীরত্ব, রাজপরিবারগুলোর মধ্যে সংঘাত এবং সম্পর্কের গভীর আবেগে পরিপূর্ণ। ১৯৯২ সালের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে তা সম্ভব হয়নি।অবশেষে পরের বছর ছবিটি মুক্তি পায় । দুর্দান্ত সূচনাও করে এবং দর্শকরা এর জাঁকজমক ও সংঘাতপূর্ণ গল্পটি ব্যাপক পছন্দ করে ।
কিন্তু ভাগ্য অন্য দিকে মোড় নেয়… মুক্তির অল্প কিছুদিন পরেই ১৯৯৩ সালের বোম্বে বোমা হামলা মামলায় সঞ্জয় দত্তের নাম উঠে আসে, যা সিনেমাটির প্রদর্শনে প্রভাব ফেলে।
এই সিনেমার আর একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দিক হলো, ‘ক্ষত্রিয়’ দিব্যা ভারতীর মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ সিনেমা হিসেবে প্রমাণিত হয়। ছবিটি মুক্তির মাত্র ১০ দিন পরেই তিনি রহস্যজনক ভাবে বহুতল আবাসন থেকে পড়ে মারা যান । আর এই ছবিটি রয়ে যায় তাঁর স্মৃতির শেষ চিহ্ন হিসাবে ।
ছবিটির একটি মজার ব্যাপার হলো, প্রথমে অমিতাভ বচ্চনকে এই ছবির জন্য ভাবা হয়েছিল, কিন্তু তাঁর অস্বীকৃতির পর বিনোদ খান্না এই প্রকল্পের অংশ হন।ছবিটিতে বাস্তব জীবনের সম্পর্কও দেখানো হয়েছিল—ধর্মেন্দ্র ও সানি দেওল, এবং বাবা-ছেলে হিসেবে সুনীল দত্ত ও সঞ্জয় দত্ত। আশ্চর্যজনকভাবে, ছবিটিতে সুনীল দত্ত এবং সঞ্জয় দত্তের একসঙ্গে একটিও দৃশ্য ছিল না। বিতর্কও এই ছবিটি থেকে দূরে ছিল না। পশু বলির একটি দৃশ্য ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং তা সরিয়ে ফেলার দাবি ওঠে।
‘ক্ষত্রিয়’ শুধু একটি চলচ্চিত্র ছিল না, বরং সেই যুগের একটি গল্প ছিল যা সাহসিকতা, রাজনীতি, সম্পর্ক এবং বাস্তব জীবনের উত্থান-পতনকে একসূত্রে গেঁথেছিল। আজও যখন এই ছবিটি স্মরণ করা হয়, তখন শুধু এর গল্পই নয়, এর পেছনের গল্পগুলোও সমানভাবে রোমাঞ্চকর মনে হয়।।
