পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),০৪ ডিসেম্বর : পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহিষমর্দিনী গার্লস ইনস্টিটিউশনের ছাত্রীদের ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় সুরাজ কুমার সাহা ও তার কাকা পিন্টু সাহাকে কুড়ুল দিয়ে মাথায় কোপানোর অভিযোগ তোলা হয়েছিল সুব্রত রায় ওরফে বাপি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে৷ আহত সুরাজের স্ত্রী মোনালী মালো(সাহা) গতকালই এনিয়ে কালনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷ বর্তমানে এলাকা ছাড়া রয়েছেন বাপি । এদিকে ছেলের জন্য উদ্বিগ্ন বাপির মা আরতি রায় পালটা অভিযোগ তুলেছেন যে তার ছেলের বিরুদ্ধে তোলা ইভটিজিং-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা৷ বরঞ্চ পুরনো শত্রুতার জেরে তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে । পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন,পুরনো একটি মামলার সূত্র ধরে শনিবার সুরাজ ও তার কাকা মিলে বাপির উপর চড়াও হয় । তার ছেলে পালটা প্রতিরোধ করলে ওই দু’জনের মাথায় কোনোভাবে আঘাত লাগে ৷ এই কারনে সুরাজরা তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ তার ।
প্রসঙ্গত,কালনার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীপাড়ার বাসিন্দা মোনালী মালো(সাহা) পুলিশের কাছে অভিযোগে জানান যে শনিবার সকাল ১১:৩০ নাগাদ মহিষমর্দিনী গার্লস ইনস্টিটিউশনের ছাত্রীদের যাতায়তের পথে বাপি রায় তাদের উত্যক্ত করছিল । তার স্বামী সুরাজ সাহা প্রতিবাদ করলে তখনকার মত সেখান থেকে চলে যায় বাপি । কিছু পরে সে বাড়ি থেকে একটা কুড়ুল এনে তার স্বামীর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় । তার কাকা শ্বশুর পিন্টু সাহা বাঁচাতে এলে তাকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় বাপি।
জানা গেছে,অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দু’জনেই একই পাড়ার বাসিন্দা । অভিযুক্ত সুব্রত রায় ওরফে বাপি পেশায় লরি চালক । অধিকাংশ দিন বাইরে থাকেন । ঘটনার আগের দিন তিনি বাড়ি ফেরেন । কিন্তু থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই তিনি এলাকা ছাড়া রয়েছেন । এদিকে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে আজ রবিবার বাড়ির পাশে কালী মন্দিরে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তার মা আরতিদেবীকে ।
তিনি এইদিনের প্রতিবেদককে বলেছেন,’গতকাল ঘটনাস্থলে আমার ছেলে যখন তার এক বন্ধুর সঙ্গে যখন কথা বলছিল,তখন সুরাজ ও তার কাকা মিলে আমার ছেলের উপর চড়াও হয় । তারপর মারামারি শুরু হয় ।’ তিনি বলেন,’আমার ছেলেকে এর আগে ৩-৪ বার মারধর করেছিক সুরাজরা । এনিয়ে মামলা চলছে । তারই জের ধরে ইভটিজিংয়ের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ফের আমার ছেলেকে ফাঁসাতে চাইছে সুরাজরা ।’ যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে অপরপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি ।।

