প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৩ মে : ভিন রাজ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মগোপন করে থেকেও মিললো না রেহাই। খনি অঞ্চলের বেতাজ বাদশা রাজু ঝা খুনের ঘটনায় জড়িত যুবককে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির ভাড়া বাড়িথেকে গ্রেপ্তার করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের গঠিত সিট ।ধৃতদের নাম ইন্দ্রজিৎ গিরি ও লালবাবু কুমার। উত্তর প্রদেশের বারাণসীর জগদীশপুরে ইন্দ্রজিৎ-এর বাড়ি।আর লালবাবুর বাড়ি বিহারের গয়া জেলার কাল্লিপুর থানার আকবরপুরে।রাজু ঝা খুনের ঘটনার পর মাসখানেক ধরে এই দুজন ঝাড়খণ্ডের রাঁচির পুনদর্গ আউটপোস্টের জগন্নাথপুর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাকছিল।তদন্তকারী অফিসাররা সোমবার ভোর রাতে ওই ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে ।
রাজু ঝা খুনের ১৮ দিনের মাথায় অন্যতম অভিযুক্ত অভিজিৎ মণ্ডলকে দুর্গাপুরের অম্বুজানগরী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । তাকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে তদন্তকারীরা অনেক ক্লু পান । তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন,রাজু ঝা খুনের পর দুষ্কৃতিরা গাড়ি বদল করে যে সাদা গাড়িতে চেপে পালিয়ে ছিল সেই গাড়িটি ইন্দ্রজিৎ ও লালবাবু দিল্লি থেকে জোগার করেছিল।ওই গাড়িটি উদ্ধার করতে এবং গাড়ি আনার বরাত দেওয়া ব্যক্তির হদিশ পেতে সোমবারই দুই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতে নিয়েছে।এরই মধ্যে পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশ বুধবার অভিজিৎ মণ্ডলকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে।
গত পয়লা এপ্রিল সন্ধ্যায় শক্তিগড় থানা এলাকায় ল্যাংচা হাবের কাছে দুষ্কৃতিরা কয়লা কারবারি রাজুকে খুন করে। খুনিরা দলে তিনজন ছিল। তারা একটি নীল গাড়িতে চেপে এসেছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নীল গাড়িটির অস্তিত্ব মেলে। অপারেশন সেরে তারা শক্তিগড় থানার কাছে নীল গাড়িটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গাড়ি থেকে গুলি, বোমা সহ বেশকিছু জিনিসপত্র উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে সিট জানতে পারে, সুপারি কিলাররা নীল গাড়িটি ফেলে রেখে একটি সাদা গাড়িতে চেপে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যায়। খুনের ঘটনায় ধৃত অভিজিৎ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সাদা গাড়িটি ইন্দ্রজিৎ ও লালবাবু সরবরাহ করেছিল বলে জানতে পারে পুলিশ।
এরপরই রবিবার সিটের কয়েকজন অফিসার রাঁচির উদ্দেশে রওনা দেয়। স্থানীয় থানার সাহায্য নিয়ে ইন্দ্রজিৎ ও লালবাবুকে গ্রেপ্তার করে সিট।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিট একজনের নাম পেয়েছে। যে দুর্গাপুরের এক ব্যবসায়ীকে খুনের পরিকল্পনা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে নাকি আলোচনাও করেছে । ওই ব্যক্তির নামও পেয়েছেন সিটের তদন্তকারী অফিসাররা। খুনিরা যাতে নিরাপদে পালাতে পারে তার জন্য অপারেশনের পর গাড়ি বদল করার পরিকল্পনা হয়। গাড়ি জোগারের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইন্দ্রজিৎ ও লালবাবুর উপরে। তারা দিল্লি থেকে সাদা গাড়িটি জোগার করে। সিটের আশা, গাড়িটির হদিশ পাওয়া গেলে জট অনেকটাই খুলবে। সাদা গাড়ি ভাড়ার বরাত কে দিয়েছিল, কোথায় গাড়িটি রাখা আছে, গাড়ির মালিকই বা কে এসব জানা গেলে রাজু খুনের কিনারার অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা ।।