এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,৩১ জানুয়ারী : পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার বিস্তর অভিযোগ উঠে থাকে ৷ তার মধ্যে অন্যতম একটি অভিযোগ হল পুলিশের “দীর্ঘসূত্রিতা”৷ আর এই দীর্ঘসূত্রিতার কারনে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানা এলাকার একটি শিশু ধর্ষিতা হওয়ার পর ন্যায়বিচার পেতে সময় লেগে গেল দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ৷ ২০১৪ সালে মেয়েটি যখন ধর্ষিতা হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর । আজ সে ২০ বছরের তরুনী । শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক ধর্ষক শেখ জাহাঙ্গীর ওরফে জাহাঙ্গীর মণ্ডলকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ।
বর্ধমান দক্ষিণের এসডিপিও-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী,সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ জাহাঙ্গীর ওরফে জাহাঙ্গীর মণ্ডলের বাড়ি রায়না থানার অন্তর্গত রূপসোনা গ্রামে । ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ২৮ শে অক্টোবর । দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ ৮ বছরের মেয়েটি যখন তার দিদির বাড়িতে খেলছিল তখন জাহাঙ্গী সেখানে আসে । সে জলপানের অছিলায় মেয়েটিকে একজন প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে জল আনার জন্য বলে । কিন্তু প্রতিবেশীর বাড়িতে তখন কেউ ছিল না । আর এই সুযোগ কাজে লাগায় নরপশু জাহাঙ্গীর মণ্ডল । সে মেয়েটির উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় ।
ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে,মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ঘরে ফিরে এসে তার মাকে ঘটনার কথা সব খুলে বলে ৷ এরপর পরিবার রায়না থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন । আদালতে চার্জশিট দাখিল ও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর অবশেষে ধর্ষক শেখ জাহাঙ্গীর ওরফে জাহাঙ্গীর মণ্ডলকে শুক্রবার(৩০ জানুয়ারী) দোষী সব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে পকসো আদালত । সবশেষে বর্ধমান দক্ষিণের এসডিপিও-এর অফিসিয়াল পেজে লেখা হয়েছে, ‘ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সঠিক বিচার পেয়েছে, এটুকুই আমাদের সান্তনা। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ মহিলাদের সুরক্ষা দিতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।’ কিন্তু এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মত একটা গুরুতর মামলার ন্যায় বিচার দিতে কেন দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সময় নিল রায়না থানায় পুলিশ ? এই প্রশ্নও উঠছে ।।
