এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৯ এপ্রিল : লেবাননে ইসরায়েলের মাত্র একদিনের বিমান হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী খতম হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর এটি একটি স্পষ্ট উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত । এদিকে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালানোর পর ইরান প্রতিশোধ হিসেবে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এও জানা গেছে যে, প্রণালীটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও আটকে দেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে, যাকে ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে মনে করে। কিন্তু কিন্তু ইসরায়েল বলছে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় ।
কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই লেবাননের বেশ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলের এই হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত এবং ১,২০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই হামলায় স্কুল, হাসপাতাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে । তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। জাহাজ কোম্পানিগুলো নৌপথের পরিবর্তন, বর্ধিত বীমা পলিসি এবং দীর্ঘতর পথের বিকল্প খতিয়ে দেখছে। ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলো হরমুজ প্রণালীর অবরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এই চুক্তির উদ্দেশ্যকে জটিল করে তোলে এবং বানিজ্য সমুদ্র পথটি বন্ধ করে দেয় ইরান ।
এক বিবৃতিতে ইরান সরকার বলেছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অধিকার রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজার, নৌপথ, বিশ্ব বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলা এবং এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেল ক্রয়, জাহাজ চলাচল পরিকল্পনা এবং যাতায়াতের পথে পরিবর্তন এসেছে। তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো নতুন বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
লেবাননে হামলার ফলে বেসামরিক নাগরিকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে এবং কাঁচা খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে।আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জরুরি সহায়তা প্রদানে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও, সীমিত সম্পদ নানা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।।
