এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৪ এপ্রিল : ভারত এস-৪০০ এর অর্ধেক দামে নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে৷ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশা’র (Project Kusha)কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে । ভারতীয় বিমান বাহিনী ডিআরডিও দ্বারা নির্মিত এই ব্যবস্থার পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনার অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকা।
‘প্রজেক্ট কুশা’ তৈরির মূল উদ্দেশ্য হল,ভারতকে বিদেশি ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা থেকে মুক্ত করা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। এই ব্যবস্থা ড্রোন, যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল এবং এমনকি বড় আকাশযানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর পরীক্ষা ও উৎপাদন একই সাথে চলছে, যা এর দ্রুত মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
প্রজেক্ট কুশা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে হুমকি মোকাবেলার জন্য তিনটি স্তরে নকশা করা হয়েছে। এম-১ ক্ষেপণাস্ত্র (১৫০ কিমি) ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো লক্ষ্যবস্তুর জন্য, অন্যদিকে এম-২ (২৫০ কিমি) স্টিলথ বিমান এবং দ্রুতগতির হুমকির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এম-৩ (৩৫০-৪০০ কিমি) ক্ষেপণাস্ত্রটি অ্যাওয়েকস (AWACS) এবং বড় আকারের আকাশস্থ লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে ব্যবহৃত হবে। এর এক আঘাতে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা ৮০%-এর বেশি বলে জানা গেছে, যার অর্থ হলো একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এম-১ ইন্টারসেপ্টরটিতে একটি ডুয়াল-পালস সলিড রকেট মোটর ব্যবহৃত হয়, যা এটিকে শেষ পর্যায়ে দ্রুত ও নির্ভুল আক্রমণ চালাতে সক্ষম করে। এর মাল্টি-ফাংশন কন্ট্রোল রাডার এবং ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে মিলিত হয়ে এটি একটি স্মার্ট, নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করে, যা ড্রোন ঝাঁক, স্টিলথ প্রযুক্তি এবং একযোগে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো আধুনিক হুমকি মোকাবেলা করতে সক্ষম।
এই মুহুর্তে রাশিয়ার এস-৪০০ বিশ্বের অন্যতম উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হলেও, প্রজেক্ট কুশা অনেক দিক থেকে একটি ভিন্ন এবং আরও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এর খরচ। যেখানে এস-৪০০-এর পাঁচটি স্কোয়াড্রনের খরচ প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা, সেখানে মাত্র ২১,৭০০ কোটি টাকায় কুশার পাঁচটি স্কোয়াড্রন তৈরি করা হচ্ছে। এর মানে হলো, এগুলো প্রায় অর্ধেক খরচে পাওয়া যাবে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দামের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। যেখানে একটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা, সেখানে কুশা ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৪০-৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও, কুশা ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজন অনুসারে তৈরি করা হয়েছে, অপরদিকে এস-৪০০ একটি আরও সাধারণ ব্যবস্থা।
প্রজেক্ট কুশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পরিচালনগত স্বাধীনতা। এস-৪০০-এর মতো বিদেশি সিস্টেমগুলোর সফটওয়্যার এবং সোর্স কোডের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না, ফলে আপডেট বা পরিবর্তনের জন্য প্রায়শই সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়।তবে, কুশা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, যা বিমানবাহিনীকে মিশন অ্যালগরিদম এবং মূল সফটওয়্যারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। এর ফলে যেকোনো কিল সুইচের ঝুঁকি দূর হয় এবং যুদ্ধকালীন সময়ে কোনো বিদেশি দেশের ওপর নির্ভরতাও থাকে না।
শত্রু যদি নতুন স্টিলথ প্রযুক্তি বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবহার করে, তবে ভারত তাৎক্ষণিকভাবে তার রাডার এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম আপডেট করতে পারবে, যা তার প্রতিক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলবে।।
