এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুরাদাবাদ,২৬ জানুয়ারী : মোরাদাবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাঁচজন ছাত্রীর বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ ধর্মান্তর বিরোধী আইন (বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ) এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে জোর করে বোরখা পরানোর অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের মতে, ঘটনাটি ঘটে যখন মেয়েটি একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফিরছিল। অভিযুক্ত ছাত্রীরাও একই কোচিং সেন্টারে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর পর, হিন্দু নাবালিকা মেয়েটির দাদা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করে মোরাদাবাদ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকাশ সিং বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। পুরো ঘটনাটি এলাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে ভুক্তভোগী এবং মামলায় নাম উল্লেখিত মেয়েরা একে অপরকে চিনত এবং একই কোচিং সেন্টারে পড়ত। প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, কোচিং ক্লাস শেষে যখন সব মেয়ে একসাথে বাড়ি ফিরছিল তখন এই ঘটনাটি ঘটে।’
নাবালিকা হিন্দু মেয়ের দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মেয়েদের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইনের ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই মামলায় এখনও কোনও গ্রেফতার করা হয়নি।পুলিশের মতে, অভিযোগকারী জানিয়েছেন যে তার বোন কাছের একটি কোচিং সেন্টারে টিউশন পড়ে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে একদল মুসলিম মেয়ে তার নাবালিকা বোনকে বোরখা পরতে চাপ দিয়েছে, তার বোনের ব্রেনওয়াশ করেছে । যেকারণে তার বোনের আচরণের পরিবর্তন ঘটে । এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুরোধ করেছেন। পুলিশের মতে, অভিযুক্ত একজন মেয়েকে শনাক্ত করা হয়েছে, এবং অভিযোগে নাম উল্লেখিত বাকি চার মেয়েকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
দৈনিক ভাস্করের এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই মামলায় অভিযুক্ত এক মেয়ে বলেছে,’আমি বুঝতে পারছি না কেন আমার হিন্দু বন্ধু আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছে। আমি তাকে কখনও বোরকা পরতে বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বলিনি। আমরা একই ক্লাসে পড়ি এবং একাদশ শ্রেণী থেকে একে অপরকে চিনি। আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব ছিল। সে নিজেও আমাদের মতো পোশাক পরতে পছন্দ করত। সে বোরখা পছন্দ করত।’ আমি বলেছিলাম,’সেদিনও সে বোরখা পরার জন্য জোর করছিল । আমি আমার বোরখা মেরামত করার জন্য দর্জির কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে বলেছিল, ‘আমি একবার চেষ্টা করে দেখব।’ আসলে, সে নিজেই নেকাব কিনেছিল। সে আমাকে বেশ কয়েকবার বোরখা আনতে বলেছিল।’।
