এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৪ জানুয়ারী : “৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না” বলে হিন্দুদের প্রকাশ্যে হুমকি দিলেন বাংলাদেশ জামাত ইসলামি নেতা আফজাল হোসেন । বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে বরগুনা-২ আসনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করে আফজাল হোসেন । তার এই প্রকার হুমকিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয় । পাশাপাশি আফজালের নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যেই এনিয়ে সমালোচনা হচ্ছে ।
জানা গেছে,বৃহস্পতিবার রাতে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিল আফজাল হোসেন । তার আগে ওই সভাতেই সে নাকি দলে যোগদান করেছিল বলে দাবি করেছে জামাত ইসলামি নেতৃত্ব । যদিও জামাত ইসলামির এই দাবি আফজাল হোসেনের বক্তব্যের দায় এড়ানোর চেষ্টা বলে মনে করছেন অনেকে । যাই হোক,জনসভায় নিজের ভাষণে আফজাল হোসেন বলেছে,‘আপনারা কি আল-কোরান চান, না বেদায়াত চান? আল-কোরান যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চ স্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে—এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনো দিন বেধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। সংবিধান থাকতে পারে না।’ সে আরও বলেছে, ‘কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরানের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, আর কি এই এলাকায় চুরি হবে? সেই শাসন আমরা চাই।’
এ সময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার চিন্তা নাই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’ যদিও এই বিষয়ে পরে আর মুখ খোলেনি জামাত ইসলামির ওই উগ্রপন্থী নেতা ।
এদিকে তার এই বক্তব্য নিয়ে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাঃ সুলতান আহমদ বলেন,’আফজাল হোসেন তাদের পুরোনো কেউ নন।’ তার কথায়, ‘তিনি নতুন মানুষ। আমাদের কালকেই পরিচয়। তিনি ওই এলাকার মানুষ। রিটায়ার্ড মুরুব্বি মানুষ—আবেগে বলে ফেলেছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মুখ থেকে বা আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আসেনি। আমার বক্তৃতা দেখলে দেখা যাবে, আমি কারও নামও নিইনি, বিরোধী দলের কথাও বলিনি।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে এমন যোগদান কার্যকর হয় না। এই বিষয়ে বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মহম্মদ পলাশ আহমেদ জানান, বিষয়টি তারা পরে জেনেছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
