এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৬ এপ্রিল : প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবটি খারিজ করা হয়েছে। ১৯৩ জন সাংসদ ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিল । স্পিকার প্রস্তাবটির সকল দিক নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করেছেন। বিচারক (তদন্ত) আইনের অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এটি খারিজ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ এখন সুরক্ষিত।
গত ১২ই মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয় । রাজ্যসভার সভাপতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করেন। সমস্ত প্রাসঙ্গিক দিক ও বিষয়াবলী বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করার পর, সভাপতি ১৯৬৮ সালের বিচারক (তদন্ত) আইনের ৩ নং ধারার অধীনে তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে এতে সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যকাল অব্যাহত থাকবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিশংসন প্রক্রিয়া চলবে না। এই পদক্ষেপটি সংবিধানের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বিরোধী দল লোকসভা এবং রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই নোটিশ দিয়েছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের জন্য একটি প্রস্তাব এনে দাবি জানানো হয় যে তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন । তাঁর বিরুদ্ধে পদে থেকে পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক আচরণ, অসদাচরণ, নির্বাচনী জালিয়াতি এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ সাতটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয় । বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলে । তারা দাবি করেছে যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু ভোটার তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা আরও অভিযোগ করেছে যে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।এই অভিযোগগুলোর সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকটি রায়ের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বিজেপিকে সহায়তা করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিরোধীরা জানিয়েছে যে এসআইআর অভিযানের লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রে থাকা শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি জানিয়েছে।।
