এইদিন ওয়েবডেস্ক,হাওড়া,০৫ মার্চ : ওয়াকফ সংশোধিত বিলের বিরোধিতার নামে সাম্প্রদায়িক হিংসায় মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে খুন হয়েছিলেন পিতাপুত্র হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস । এরপরেও ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোটেও যদি এরাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তন না হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গ “গ্রেটার বাংলাদেশ” হবে এবং হিন্দুদের অবস্থা হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের মত হবে বলে সতর্ক করে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাওড়া জেলার শ্যামপুরে দলের ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’য় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা একদম মাথা উঁচু করে এবারে নির্বাচনে লড়ুন। আমরা ৫১ তে ছিলাম ৮৫ শতাংশ হিন্দু । এগারোর জনগণনায় আমরা হয়েছি ৭২ শতাংশ হিন্দু। এবারে যদি সরকার করতে না পারেন তাহলে আপনাদের সকলের অবস্থা ধুলিয়ানের হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস এর মত হবে । এই লড়াই বাঁচার লড়াই ।’
হাওড়ার সাম্প্রদায়িক হিংসার অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন,’কতবার রক্তাক্ত হবেন ? হাওড়া জেলা, ভুলে গেছেন এত শর্ট মেমোরি ? ভুলে গেছেন সিএএ-কে এনআরসি বলে উলুবেরিয়া থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত ২০১৯ সালে আগুন জ্বালিয়েছিল কারা ? আমাদের রাজ্যের সেক্রেটারি হাওড়ার তাজা নেতা উমেশ রায়ের বাড়ির সামনের ৩৭টা বাস জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ভুলে গেছে হাওড়া ? ২১ সালে মনসাতলা পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছিল । ভুলে গেছেন ? এত সর্ট মেমোরি আপনাদের ? ২১ শের ভোটের পরে কি অত্যাচার করেনি, অত্যাচার হয়েছে বাগনানে মুক বধীর মাকেও রেপ করেছে ।শ্যামপুরে চব্বিশ সালে দূর্গা পূজার বিজয়ার দিন মা দুর্গার পাঁচটা মূর্তি ভেঙেছিল, ভুলে গেছেন ? এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেছেন ? এক মাস আগে পাঁচটা মন্দিরে গো মাংস ফেলেছে। ভুলে গেছেন ? ভুলে গেছে শ্যামপুর ? ধুলিয়ান ভুলে গেছেন হর গোবিন্দ দাস-চন্দন দাসকে? মহেশতলায় তুলসী মঞ্চ ভাঙ্গা ভুলে গেছেন? ভুলে গেছেন? এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেছেন ?’
তিনি বলেন,’আমি বলি, না ভুলতে পারেন না । মা দুর্গা কে ভেঙেছিল যারা আমরা ভোটের দিন তাদের ভাঙবো । জাগো হিন্দু । বদলা নেবেন না ? ইভিএমে বদলা চাই । আইন হাতে তুলে নিতে হবে না । আসাম, উত্তরপ্রদেশে কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হয় না । ওখানে যোগীজি, হেমন্ত জির পুলিশ যা করার তাই করছে । যে যে ভাষায় কথা বললে সন্তুষ্ট হয় সেই ভাষাতেই কথা বলছে । আপনারাও চান না ?’
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’যে ভাবে জামাতিকরণ, মৌলবাদের উত্থান হয়েছে, জঙ্গিবাদের ঘাঁটি হয়েছে, সেই ভাবে আমাদের ন’টা জেলাতে জনবিন্যাসের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা এবারে যদি পরিবর্তন না করতে পারি তাহলে এই বাংলা গ্রেটার বাংলাদেশ হয়ে যাবে । যে গ্রেটার বাংলাদেশের স্বপ্ন বাংলাদেশে বসে জামাতিরা, মৌলবাদীরা, আনসারুল বাংলার লোকেরা দেখছে ।সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে কেড়ে নেওয়ার কথা বলে । বলে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ করে আমাদের পশ্চিমবাংলাকে বদলে দেব । সেই লক্ষ্যে তারা পৌঁছে যাবে ।’
তিনি বলেন,’আমাদের রাজ্যে আগে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরে মুসলিম অধ্যুষিত ছিল। আজকে আপনারা দেখছেন যে নদীয়া জেলা, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা, হাওড়া জেলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা, বীরভূম জেলায় কিভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে । কোন ভারতীয়কে নিয়ে নয়, তিনি হিন্দু হন অথবা মুসলমান, আমাদের কোন বক্তব্য নেই । আমাদের বক্তব্য এই যে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা যেভাবে আমাদের রাজ্যে ঢুকে গোটা দেশের চাড়িয়ে গেছে, কিভাবে এরা এলো ? ৫৫০ কিলোমিটার বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য মমতা ব্যানার্জির জমি দেয়নি ।’ শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’ফর্জি আধার কার্ড, ফর্জি এপিক কার্ড, ভোটার তালিকায় নাম, রেশন খাচ্ছে, লাভ ছিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, ধর্ম পরিবর্তন, মহিলাদের ওপর গ্যাং রেপ, নাবালিকাদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, মানব পাচার, হেরোইন পাচার, ফেক ক্যারেন্সি, বডারের ৬০০০ গ্রামের শাঁখ বাজেনা, উলুধ্বনী হয়না, ঘণ্টা বাজে না, কাঁসর বাজে না, শিব মন্দির নেই, তুলসী মঞ্চ নেই, কোথায় নিয়ে যাচ্ছি বাংলাকে আমরা ?’
তিনি বলেন,’বর্ডার যদি সিল করতে হয়, বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মুক্ত করতে হয়, জামাতের হাত থেকে বাঁচাতে হয়, মৌলবাদ জঙ্গিবাদের হাত থেকে যদি পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হয় ল্যান্ড জিহাদ- লাভ জিহাদ,রেশন জিহাদের হাত থেকে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে পদ্ম ফুলের কোন বিকল্প নেই । আমরা এই রাজ্যকে মুসলিম অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করবো ।’
বিশাল জনসভায় শুভেন্দু উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন,’সবাইকে গ্রামে এক করুন । আমি দেখতে চাই কোনো মুসলমান বুথে ৭০০ ভোটের মধ্যে যদি ৬৯০ ভোট তৃণমূল পায়ে তাহলে হিন্দু বুথে ৭০০ ভোটের মধ্যে যেন ৬৯১ টা ভোট বিজেপি পায় । বুথগুলোর দায়িত্ব নেবেন তো ? আর আমি দায়িত্ব নিয়ে গেলাম, নন্দীগ্রামে হারিয়েছি ভবানীপুরেও হারাবো ।’।

