এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ ফেব্রুয়ারী : এসআইআর-এর বিরোধিতা করতে ভাইপো অভিষেককে নিয়ে দিল্লি চলে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি । তারপর সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন । এ নিয়ে রাজ রাজনীতির সরগরম । রাজ্যের বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন যে মমতা ব্যানার্জির আসল এজেন্ডা হল এসআইআর-কে ঘেঁটে দেওয়া এবং ২০২৪ সালের ভোটার লিস্টে ভোট করে ভুয়ো ভোটারদের ভোটে ক্ষমতায় আসা । আর ২৬ শে জিতলে এরাজ্যের হিন্দুদের তাড়িয়ে তৈরি হবে গ্রেটার বাংলাদেশ এবং যার প্রেসিডেন্ট হবে মোল্লা ইউনূস আর প্রধানমন্ত্রী খালা মমতা ।
আজ বিকেলে কলকাতার ধর্মতলায় ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার ডাকা “চাকরি চায় বাংলা” কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী । কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হোন । মমতা ব্যানার্জির দিল্লি যাত্রা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওনার মূল এজেন্ডা হচ্ছে এসব করে ঘেঁটে দাও । সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বল যে নির্বাচন যথা সময়ে করতে হবে, এসআইআর তো ভণ্ডুল করে দিলাম । তাহলে ২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের লিস্টটাই করুক । যাতে মৃত থাকবে, ফেক থাকবে, সেখানে ডবল-টিপিল এন্ট্রি থাকবে,বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা থাকবে। বাবা মাজেদ আর তার আটটা ছেলে আর তিনটা মেয়ে থাকবে । চারটে বউ থাকবে । তাদের নাম ভোটার লিস্টে থাকবে । তিনি(মমতা ব্যানার্জি) সেই ভোটার লিস্ট নিয়ে আবার জিতে যাবেন । জিতে ২০১১ সালে টাটা-কে তাড়িয়েছেন । ২০১৬ সালে চাকরি বেচেছেন । ২০২১শে আরজি কর করেছেন । ২০২৬ শে হিন্দু শূন্য করে দেবেন । দিয়ে উপরের ইউনুস এবং এপারের মমতা মিলে গ্রেটার বাংলাদেশ হয়ে যাবে । গ্রেটার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবে মোহাম্মদ ইউনুস আর প্রধানমন্ত্রী হবে খালা মমতা ।’
গতকাল দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমার তাকে হুমকির সুরে কথা বলেছেন । উত্তরে তিনি নাকি বলেছিলেন আমি আপনাদের ক্রীতদাস নই । এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,’কোন প্রমাণ আছে ? আমি যদি বলি জ্ঞানেশ কুমার এবং ফুল ইসিআই বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী এবং তার টিমকে কড়কে দিয়েছেন ? যদিও আমার কাছে প্রমাণ নেই । মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেছেন ৬টা চিঠি দিয়েছি উত্তর দেননি কেন ? তার উত্তর ইলেকশন কমিশন বলেছে যে মুখ্যমন্ত্রীর প্যাডে যতক্ষণ চিঠি লিখবেন তার উত্তর কমিশন দেবেনা । আপনি যেদিন আপনার আঞ্চলিক দলের প্যাডে চিঠি লিখবেন সেদিন উত্তর পাবেন । আমি যদি বলি নির্বাচন কমিশন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন যে আপনি যোগাযোগের নাম্বার হিসেবে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি গৌতম সান্যালের ফোন নাম্বার দিয়েছেন কেন ? আমার কাছে প্রমাণ আছে আমি নবান্ন থেকে সংগ্রহ করেছি, উনি ওই নাম্বার পরিবর্তন করে অন্য নাম্বার দিয়েছেন । আমি যদি বলি মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেছিলেন এসআইআর-এ এই এই লোক মারা গেছে । নির্বাচন কমিশন তখন বলেছে আপনার ডিস্ট্রিক্ট ডিওরা বা জেলা শাসকরা একটা কেসের ক্ষেত্রেও তথ্য এবং প্রমাণপত্র দিয়ে কেন কমিশনকে জানায়নি ? এর উত্তরগুলো উনি দিতে পারবেন ? আমি এমন ভিতরের ভিডিও প্রমাণ দিতে পারব না । মুখ্যমন্ত্রীর এই আষাড়ে গল্প মানুষ জানে ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’পশ্চিমবঙ্গের মূল যে সমস্যা বেকারত্ব, নারী সুরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ, সিন্ডিকেট এবং হিন্দুদের উপর-হিন্দুদের দেবদেবীর উপর-হিন্দুদের মন্দিরের ওপর-হিন্দুত্বের ওপরে-হিন্দু ধর্ম পালনের উপরে যে ধরনের মৌলবাদী-জঙ্গি-জিহাদী উগ্র ধর্মান্ধদের জামাতিদের স্টাইলে আক্রমণ হয় এগুলোই পশ্চিমবঙ্গের মূল সমস্যা । লোক বাইরের রাজ্য থেকে এ রাজ্যে ফিরতে চায় । তারা এসব শুনতে চায় না ।’ বিরোধী দলনেতার কথায়,’আমরা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে ওকে এনেছিলাম । এটাও আমাদের বড় অনুতাপের বিষয়।’।

