নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারকে অনৈতিকভাবে উৎখাত করে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তদারকি সরকার আসার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কুটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে গেছে । বাংলাদেশের কট্টর ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিষোদগার করে যাচ্ছে । এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্ব ৭ রাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) দখল করে গ্রেটার বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিচ্ছে বাংলাদেশের মুসলিম উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলি । পাশাপাশি বাংলাদেশের “রাজাকার”রা পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে ৷ এমনকি এটাও খবর আসছে যে সেভেন সিস্টার্সে হামলা চালাতে ৮,০০০ বাংলাদেশি সন্ত্রাসীকে নিয়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করছে পাকিস্থানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই । ওই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে একাত্তরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর দোসর জামায়াতে ইসলামী নেতা গোলাম আযমের পুত্র আবদুল্লাহিল আমান আজমি।
এমতবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভারতের পালটা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় কতটা আতঙ্কিত তা প্রকাশ পেয়েছে একজন রিক্সাচালকের কথায় । সম্প্রতি এক বাংলাদেশি রিক্সাচালকের বক্তব্যের একটা ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । তাকে বলতে শোনা গেছে,”ভারতের বানগুলো যদি ছেড়ে দেয়,আমরা শ্যাষ । তাহলে বাপের আগে আমাদের বকার কি দরকার আছে ? তোর কি দরকার ? এই,সন্ত্রাসের বাচ্ছারা । ভারতকে বকা দ্যাস৷ ভারত কি কোনো বাংলাদেশকে বকছে ? একবার যদি ভারত বকে তাহলে অবস্থা কি হইব ? একবার যদি ভারত উলটি লয়,তাহলে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে ? ওরা যদি বানরগুলো ছেড়ে দেয়….ভারত কি বলছে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা ?” ওই বাংলাদেশি রিক্সা চালকের এহেন উপলব্ধির প্রশংসা করেছেন সেদেশের মানুষ । একজনের বক্তব্য,”বাংলাদেশের একজন রিস্কা চালকেরও যথেষ্ট মাথায় বুদ্ধি আছে। উনি যুক্তিসম্মত কথা বলেছেন ।” বাংলাদেশের রিক্সাচালকের বক্তব্য শুনুন 👇
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রম বড় ধরনের সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে মহম্মদ ইউনূস । দিল্লি ও আগরতলার পর এবার কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস থেকেও ভারতীয়দের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ বা ‘সীমিত’ করা হয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ- দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার থেকে ওই তিন শহরে পর্যটক ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে কেবল আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন থেকে সীমিত আকারে ভারতীয়দের বাংলাদেশ ভ্রমণের ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক ও জরুরি ক্যাটাগরির ভিসা এখনো চালু রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন,“আমার কাছে ভারতীয়দের ভিসা স্থগিত বা সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে যেসব মিশনে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেগুলোতে আপাতত ভিসা সেকশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি পুরোপুরি নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত।”
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভ, আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সামনে উত্তেজনা এবং অতীতে হামলার ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগও তুলেছে ঢাকা।
এদিকে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার আইপিএলের সব খেলা সম্প্রচার বন্ধ করেছে এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফরে বাংলাদেশ দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেছেন,“যখন একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা যায় না, তখন পুরো দল ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? তাই আমরা খেলব, কিন্তু ভারতের বাইরে।”
অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চালু থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে চালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থে ভারত থেকে পণ্য কেনা অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এদিকে বাংলাদেশে (Bangladesh Violence) হিন্দুসহ সংখ্যালঘু (Minority Safety) সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান নৃশংসতা ও বেলাগাম হিংসার ঘটনায় মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে চরম বার্তা দিয়েছে ভারত। গত এক মাসে অন্তত ৫ জন হিন্দুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং অসংখ্য মন্দির ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। দিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মৌলবাদে লাগাম টেনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনূস প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।সব মিলিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং খেলাধুলা ঘিরে দ্বন্দ্বের আবহে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। ভিসা সীমিতকরণ সেই সংকটেরই সর্বশেষ প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা ।।

