এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,২০ ফেব্রুয়ারী : বিবাহ -বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের সাথে ষড়যন্ত্র করে সুপারি কিলার লাগিয়ে স্বামীকে খুনের ঘটনায় আজ শুক্রবার ৩ আসামির সাজা ঘোষণা করল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের অতিরিক্ত ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের দ্বিতীয় আদালত ৷ সাজাপ্রাপ্তরা হল : মৃত প্রবীর দাসের স্ত্রী রাখি দাস,রাখির প্রেমিক সৌমেন দাস ও সুপারি কিলার আজমাউল শেখ ওরফে সরিফুল ইসলাম৷ আসামিদের ৩ জনকেই ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
নিহত প্রবীর দাসের বাড়ি সুতি থানার হাপানিয়া গ্রামে । তিনি পোলট্রি ফার্ম চালাতেন । ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ । তখন নিজের ফার্মেই ছিলেন প্রবীর দাস । সেই সময় বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা ফার্মে চড়াও হয়ে প্রবীরবাবুকে খুব কাছ থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে৷ গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি । হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই ব্যবসায়ীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরের দিন এনিয়ে সুতি থানায় মৃতের বাবা জয়দেব দাসের অভিযোগ দায়ের করেন । তার ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই প্রশান্ত কুমার দাস । প্রাথমিক ভাবে তখন থেকেই পুলিশের অনুমান ছিল যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপড়েনেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে । তদন্তে নেমে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ।।পুলিশ প্রথমে সৌমেন দাস ও আজমাউল শেখকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জেরার মুখে সৌমেন স্বীকার করে যে প্রবীরের স্ত্রী রাখি দাসের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্কের কথা। সেই সম্পর্কের জেরে পথের কাঁটা দূর করতে রাখির সঙ্গে পরিকল্পনা করে আজমাউল শেখকে খুনের জন্য ভাড়া করে বলে সে কবুল করে । এরপর রাখিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।
পুলিশ ধৃতদের জবানবন্দি ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে যথাসময়ে আদালতে চার্জশিট পেশ করে । গতকাল ৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত । আজ সাজা ঘোষণা করা হয় ।।

