পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),২৪ ফেব্রুয়ারী : একটু একটু করে তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাংকে থাবা বসাচ্ছেন হুমায়ুন কবির । পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী উত্তরের পর পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভায় আজ মঙ্গলবার হুমায়ুন কবিরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) কার্যালয় উদ্বোধনের দিন প্রায় দেড়শ তৃনমূল কর্মী যোগদান করেছেন বলে দাবি করলেন জেইউপি-এর শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক তথা পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী বাবান ঘোষ। এর আগে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের নির্বাচনী এলাকা পূর্বস্থলী- ২ ব্লকের কালেখাতলা -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মুসলিম অধ্যুষিত কাঁঠালবেড়িয়া গ্রামের প্রায় ২০০ টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে জেইউপি-তে যোগদান করেছে বলে দাবি করা হয়েছিল ।
আজ মঙ্গলবার কালনা-কাটোয়া রোডের সমুদ্রগড় বিবির- হাটতলা মোড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির নতুন কার্যালয়ে এসে যোগদানের পর প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বাবুলাল শেখ বলেন,’বর্ধমান,পূর্বস্থলী,কাটোয়া থেকে শুরু করে কলকাতা পর্যন্ত দলের হয়ে বহু আন্দোলন করেছি । বহু করেছি কিন্তু আজ চিরতরে তৃণমূল ছেড়ে দিলাম ।’
পাশাপাশি পূর্বস্থলী ১ ব্লকের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সভাপতি রফিজুল সেখ ওরফে কালো সেখ বলেন,’তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আর এখানকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের দুর্নীতির এবং সংখ্যালঘু এলাকার তৃণমূল কোন উন্নয়ন না করার জন্য, আজ তৃণমূল ছেড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগদান করলাম। আর কিছুদিনের মধ্যেই মধ্যেই আমার মত, কিংবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীরা এই দলে যোগদান করবে।’
এদিকে বাবান ঘোষ দাবি করেছেন, কিছুদিনের মধ্যে দফায় দফায় অন্তত ১৫ হাজার তৃণমূল কর্মী জনতার উন্নয়ন পার্টিতে যোগদান করবে। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,’তৃণমূল কংগ্রেসের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। এলাকার মানুষ জেনে গেছে যে এখানকার তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী কত বড় দুর্নীতিবাজ। উনিসহ ওনার চেলা- চামুন্ডারা লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে, এলাকার মানুষ সবাই জানে। ওদের কীর্তি কলাপ সবাই বুঝে গেছে। আর বিজেপির তো দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। ওরা গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে আছে। তাই এবার আর তৃণমূল, বিজেপি নয়, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে জয়লাভ করবে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী।’
এদিন বাবান ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে ভিডিও দেখিয়ে বলেন, দেখুন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর বাড়ির কাছে বিদ্যানগর, গঙ্গানন্দপুরে পুকুর সংস্কারের নামে কিভাবে জেসিবি মেশিন দিয়ে দেদার মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকায় এক ডজন বেশি মাটি বোঝাই ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমরা চাই প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এলাকার মানুষ বুঝুক এই দুর্নীতি পরায়ণ মানুষ গুলো ক্ষমতায় টিকে থাকলে রাজ্যের কতটা ক্ষতি হয়ে যাবে ।’
এদিন সমুদ্রগড় বিবির-হাটতলা মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির জেলা সভাপতি পঙ্কজ গাঙ্গুলী, সহ-সভাপতি ফজলুল হক ওরফে মন্টু হাজী, মদন পাল প্রমূখ নেতৃত্ববর্গ ৷।

