এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসানসোল,০৯ জানুয়ারী : এরাজ্যে “বহিরাগত” শব্দ আমদানি মূলত শাসকদল তৃণমূল ও তৃণমূলের মদতপুষ্ট ভুঁইফোড় গোষ্ঠী “বাংলা পক্ষ” আমদানি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে । কিন্তু খোদ তৃণমূলের মধ্যেই রয়েছে এমনই কিছু “বহিরাগিত” সাংসদ ! তাদের মধ্যে অন্যতম ৪ নাম হল : তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ গুজরাটের সাখেত গোখলে,দিল্লির সাগরিকা ঘোষ, বর্ধমান- দুর্গাপুর লোকসভার তৃণমূল সাংসদ বিহারের বাসিন্দা কীর্তি আজাদ এবং আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ বিহারের বাসিন্দা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা । ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে কীর্তি আজাদ ও শত্রুঘ্ন সিনহা জয়লাভ করেন । কিন্তু ভোটে জেতার পর কীর্তি আজাদ ও শত্রুঘ্ন সিনহাকে পারতপক্ষে এলাকায় দেখা যায় না বলে অভিযোগ । সাংসদ হিসাবেও তাদের পারফর্মেন্স নিয়েও ওঠে একরাশ প্রশ্ন । তার মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহার পারফরম্যান্স নিয়ে খোদ আসানসোলের এক আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তিনি দাবি করেছেন যে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর শত্রুঘ্ন সিনহার MP LAD-এ বরাদ্দ ৯.৮০ কোটির মধ্যে মাত্র ২.২৩ কোটি টাকা বিগত প্রায় এক বছরে খরচ দেখানো হয়েছে । তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে শাসকদলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন : “আসানসোলের মানুষ কি শুধু ভোট দেওয়ার যন্ত্র ?”
আসানসোলের বাসিন্দা আইনজীবী দীপ্তরূপ মন্ডল (Diptarup Mondal) নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন,’আরও এক ‘বহিরাগত’ TMC MP-এর মুখোশ খুলে যাচ্ছে! আসানসোলের মানুষ কি শুধু ভোট দেওয়ার যন্ত্র?নাকি তাঁদের বিশ্বাস, আশা আর স্বপ্ন—সবই TMC-র জন্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য?’
তিনি লিখেছেন,’পরিচয় করুন—বহিরাগত All India Trinamool Congress সাংসদ Shatrughan Sinha Official। ভোটের সময় বড় বড় কথা, ক্যামেরার সামনে হাসি, আর জেতার পর ? আসানসোল সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। MP LAD ওয়েবসাইটের সরকারি তথ্য বলছে— এখনও পর্যন্ত একটিও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি । অথচ খরচ দেখানো হয়েছে ২.২৩ কোটি টাকা । মোট বরাদ্দ ছিল ৯.৮০ কোটি টাকা ।’
ওই আইনজীবীর কথায়,’প্রশ্নটা খুব সোজা— কাজ না হলে টাকা গেল কোথায়? উন্নয়ন না হলে এই খরচের মানে কী?এটাই কি Mamata Banerjee-র তথাকথিত “উন্নয়ন”? এটাই কি TMC-র “উন্নয়নের জোয়ার”—যেখানে কাগজে খরচ, বাস্তবে শূন্য ?আজ শত্রুঘ্ন সিনহা, গতকাল অন্য কেউ—বহিরাগত এনে বাংলার মানুষকে শুধু ব্যবহার করা হচ্ছে।ভোট নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দায়িত্ব? দায়িত্ব নেই । জবাবদিহি নেই । লজ্জা নেই ।’
তিনি বলেছেন,’আসানসোলের মানুষ কি এই প্রতারণা মেনে নেবে? নাকি এবার প্রশ্ন করবে – আমাদের টাকা, আমাদের অধিকার, আমাদের উন্নয়ন কোথায়? এই “উন্নয়ন নাটক” আর কতদিন চলবে? বাংলা জাগছে। বাংলা প্রশ্ন করছে। আর একদিন—বাংলাই জবাব দেবে।’।

