নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির সাথে যুক্ত অনলাইন মৌলবাদী কার্যকলাপের তদন্তের সময় মুম্বাই এটিএস আয়ান শেখ (Ayan Shaikh) নামে এক মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে যে সে এই ধরনের কন্টেন্ট শেয়ার করে এমন একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে সক্রিয় ছিল। দুটি ফোন এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে; তাকে ১২ মার্চ পর্যন্ত এটিএস হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আর তার এই গ্রেপ্তারি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে । কারন ধৃত আয়ান ইউসুফ শেখ কম্পিউটার বিজ্ঞানের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র । দিল্লির লাল কেল্লায় সংঘটিত সেই ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় ধৃতদের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল যে তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য । ফলে এই প্রবনতায় বাড়ছে উদ্বেগ ।
এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান ম্যাট্রিক্সের একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে৷ এক্স-এ শেয়ার করা রিপোর্টটি রিপোস্ট করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য । রিপোর্টে লেখা হয়েছে,দিল্লির লাল কেল্লায় সংঘটিত সেই ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলার (১০ নভেম্বর, ২০২৫) ঠিক পাঁচ মাস পর—যে হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন এবং যার সূত্র ধরে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদের এক ইকোসিস্টেম’ বা চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছিল—আমরা আবারও পেলাম এক হাড়হিম করা দৃষ্টান্ত। ওই চক্রে এমবিবিএস/এমডি ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ডাঃ উমর- উন-নবীর মতো উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ এবং জইশ-ই- মুহাম্মদ (JeM) ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকে জড়িত ছিল ।
আজ, ১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে মুম্বাইয়ের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র আয়ান ইউসুফ শেখের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সে জইশ-ই-মুহাম্মদ (JeM) এবং আইএসআইএস (ISIS)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত; তাকে শিক্ষার্থী নিয়োগ, উগ্রবাদী প্রচার চালানো এবং বড় মাপের হামলার পরিকল্পনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটি উগ্রবাদী হয়ে ওঠার এমন এক প্রবণতা, যা অনলাইনে অত্যন্ত নীরবে ঘটে চলেছে—এমন সব মানুষের মাঝে, যাদের ওপর-উপরি দৃষ্টিতে ‘সাধারণ’ মনে হলেও, তারা আসলে উচ্চশিক্ষা ও বিশেষ দক্ষতায় সমৃদ্ধ।
প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। উগ্রবাদী তৎপরতা এখন ক্রমবর্ধমান হারে শিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। সেই প্রথাগত ধারণার ‘দারিদ্র্যপীড়িত ও পড়াশোনা- ছেড়ে-দেওয়া’ তরুণদের নয়, বরং প্রকৌশলী, চিকিৎসক, পিএইচডি গবেষক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের—যাদের অনলাইনে অত্যন্ত গোপনে উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত করা হচ্ছে। নথিভুক্ত মামলাগুলোর একটি চিত্র এই প্রবণতাটি তুলে ধরে :
– আয়ান ইউসুফ শেখ: বি-টেক
– উমর খালিদ: এমএ, এমফিল, পিএইচডি
– শারজিল ইমাম: বি-টেক, এম-টেক, পিএইচডি
– গুলফিশা ফাতিমা: এমবিএ
– মীরান হায়দার: বি-টেক, এমবিএ, এমফিল, পিএইচডি গবেষক
– ডঃ উমর-উন-নবী: এমবিবিএস, এমডি
– ডঃ শাহীনা সাঈদ: এমবিবিএস, এমডি
– ডঃ আহমেদ মহিউদ্দিন: এমবিবিএস
– সফদর নাগোরি: সিমি (SIMI)-এর সাথে যুক্ত
– রিয়াজ নাইকু: বিএসসি
– ইয়াকুব মেমন: এম-কম, সিএ
– মানান বশির ওয়ানি: এমএ, এমফিল, পিএইচডি
– আফজাল গুরু: এমবিবিএস (অসমাপ্ত)
‘ইন্ডিয়ান ম্যাট্রিক্স’ (Indian Matrix)-এর করা এমন ১১৩টিরও বেশি প্রোফাইলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ থেকে যা উঠে এসেছে:
– ৩২.৭৪% ইঞ্জিনিয়ারিং/প্রযুক্তি
– ৩২.৭৪% মানবিক/সমাজবিজ্ঞান
– ৯.৭৩% চিকিৎসা বিজ্ঞান
– ৯.৩% বাণিজ্য
– ৩.৫৩% আইন
– ২.৬৫% গণমাধ্যম
– ৮.৪০% অন্যান্য
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আয়ান ইউসুফ শেখের নাম এই তালিকায় যুক্ত হওয়াটা এই প্রবণতাকেই আরও জোরালো করে। এরা কেউ দারিদ্র্যপীড়িত বা পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া মানুষ নন; বরং এরা হলেন বি-টেক, এমবিএ, পিএইচডি, এমডি এবং সিএ ডিগ্রিধারী ব্যক্তি—যারা সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের মতো কাজে জড়িত। উগ্রবাদের মূল চালিকাশক্তি অর্থনৈতিক বঞ্চনা বা শিক্ষার অভাব নয়; বরং এটি হলো আদর্শগত বা মতাদর্শিক উগ্রায়ন।
স্বদেশী সন্ত্রাসবাদের এই বিবর্তন প্রচলিত সব গতানুগতিক ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। লালকেল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তার পর্যন্ত—একটি বিষয় এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনলাইন জগত এবং বিভিন্ন সামাজিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। সব শেষে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আপনার কী মনে হয়—কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা আদর্শের মোকাবিলা করার জন্য কেবল শিক্ষাই কি যথেষ্ট?
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে সন্ত্রাসবাদে বা উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার এই প্রবনতা রোধ করার পরিবর্তে তাকে সযত্নে লালনপালন করার প্রচেষ্টা দেশে সুকৌশলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র । চক্রটি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে । দিল্লির উত্তম নগরের দলিত যুবক তরুণ কুমার খটিকেরর পিটিয়ে হত্যার পর, দিল্লি সরকার বুলডোজার অভিযান শুরু করতেই এই চক্রটি অপবাদমূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে । কথিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডার মহম্মদ জুবের ও মুসলিম আইটি সেল নামে গজিয়ে ওঠা একটা উগ্র ইসলামি মতাদর্শে বিশ্বাসী গোষ্ঠী এই চক্রে সামিল রয়েছে । তারা অভিযুক্ত মুসলিমদের পরিবারের এক মহিলাকে সামনে রেখে, তরুণ খটিকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যক অভিযোগ এনে ভিকটিম কার্ড খেলতে শুরু করেছে । এক্ষেত্রে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম নারীদের।।
