এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),০৭ ডিসেম্বর : বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় মা ও দুই ছোট ছোট ভাইবোনকে নিয়ে ৫ জনের সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে ১৫ বছরের কিশোরের উপর । সকাল থেকে রাজমিস্ত্রির কাজের পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত টোটো চালিয়ে সেই উপার্জনে সংসার চালাচ্ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার বিরুরি গ্রামের বাসিন্দা হাসিদুল শেখ নামে ওই কিশোর । তারই মাঝে নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিল সে । কেতুগ্রামের আমগড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল হাসিদুল । কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে টোটো চালিয়ে যাওয়ার সময় বাইকের ধাক্কায় প্রাণ চলে গেল তার । ওই কিশোরের মৃত্যুর পর গোটা পরিবারটি কার্যত অথৈ জলে পড়ে গেছে ।
জানা গেছে,হাসিদুল শেখের বাবা নটর শেখ শারিরীক প্রতিবন্ধী। এক বোন রুকসানা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। ভাই কিতাবুল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়তে যায় । অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবার । পরিবারের যাবতীয় খরচখরচা হাসিদুলই জোটাতো । ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন যাত্রীকে টোটোয় চাপিয়ে আনখোনা গ্রামে যাচ্ছিল হাসিদুল । যাত্রীরা মিষ্টি কেনার জন্য আনখোনা ও বিরুরি গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় একটি দোকানের সামনে টোটোটি দাঁড় করায় । রাস্তার উপর টোটো নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল হাসিদুল । সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল হারিয়ে সজোরে টোটোতে ধাক্কা দেয় । দুই বাইক আরোহী সহ হাসিদুল ছিটকে পড়ে । এরপর তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় কাঁদরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হাসিবুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম দুই বাইক আরোহীকে সেখান থেকে বীরভূমের সিয়ান হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁদের মধ্যেও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়,জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবারকে সুস্থ জীবন দেওয়ার স্বপ্ন দেখত কিশোর হাসিদুল শেখ । সেই কারনে দিন রাতের অধিকাংশ সময় হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরেও লেখাপড়া বন্ধ করেনি সে । বছর দেড়েক ধরে সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে তুলে নিলেও ভোর রাত থেকে কয়েক ঘন্টা পড়াশোনা করত । মাঝেমধ্যে স্কুলেও হাজিরা দিত । কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় সব কিছু শেষ করে দিল বলে তারা আফসোস করেছেন । মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা ।।

