এইদিন ওয়েবডেস্ক,কুষ্টিয়া,১১ এপ্রিল : বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে ইসলামি কট্টরপন্থীদের দল(তৌহিদী জনতা)। নিহত ব্যক্তি ‘শামীম পীর’ নামে সুপরিচিত। তার বহু ভক্ত-অনুরাগী রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুরোনো একটি ভিডিও ভাইরাল করে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের উত্তেজিত করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে উগ্র ইসলামি মৌলবাদীরা ।এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় শামীম রেজার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া অনুসারীদেরও ব্যাপক মারধর করা হয় ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে শামীম রেজার বক্তব্য দেখে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালায়।
হামলাকারীদের অভিযোগ, ‘শামীম রেজা নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করতেন এবং ইসলামের মৌলিক ইবাদত নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন।তাদের দাবি, ‘অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন তিনি।’এছাড়া তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী রীতি ভঙ্গ করে ঢাকঢোল বাজানো এবং ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়ার মতো আচারের কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কোরান নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তোলা হয় শামীম রেজার বিরুদ্ধে।
আজ সকালে এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পুলিশের উপস্থিতিতেই বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে একসময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে একটি আস্তানা গড়ে তুলে নিজের মতাদর্শ প্রচার শুরু করেন ।পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।পরে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।।
