অপারেশন সিন্দুরে শোচনীয় পরাজয় বরণ করার পরও, পাকিস্তান দমে যায়নি। পাকিস্থান অধিকৃত কাশ্মীর (PoJK) থেকে একটি ভীতিকর ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে যেখানে লস্কর-ই-তৈয়বার কুখ্যাত সন্ত্রাসী কমান্ডার আবু মুসা কাশ্মীরিকে প্রকাশ্যে বিষ উগরে দিতে দেখা গেছে । হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে থাকা মুসা ঘোষণা করেছে যে কাশ্মীরের স্বাধীনতা ভিক্ষা করে নয়, বরং “হিন্দুদের গর্দান কেটে” অর্জন করা হবে। তার বক্তব্যের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।
ভাইরাল ভিডিওতে, আবু মুসা কাশ্মীরি দাবি করছে যে কাশ্মীর সমস্যা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং জিহাদের মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে। সে দৃঢ়ভাবে বলেছে যে আমাদের অবশ্যই ইসরায়েল এবং হামাসের মতো আক্রমণ শুরু করতে হবে। আবু মুসা বলেছে, “ফিলিস্তিনের শত্রু এবং কাশ্মীরের শত্রু একই, এবং আমাদের অবশ্যই তাদের নতজানু করতে হবে।” উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সাথেও মুসার নাম জড়িত,যাকে মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হচ্ছে। সে এর আগেও হিন্দুদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল ।
আবু মুসা কেবল ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগারই করেনি, পাকিস্তানের শাসকদেরও সমালোচনা করেছে । সে বলেছে যে পাকিস্তানের নেতারা ইসলামিক নীতি থেকে সরে গেছেন। মুসার মতে, যে নেতা জিহাদের জন্য প্রস্তুত নন এবং কলমার প্রতি বিশ্বস্ত নন, তার দেশ শাসন করার কোনও অধিকার নেই। সে দাবি করেছে যে সে মুজাফফরাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও একই রকম মন্তব্য করেছিল ।
শুধু মুসা নয়, আর এক লস্কর কমান্ডার মোহাম্মদ আশফাক রানাও শাহবাজ শরীফ সরকার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের তীব্র সমালোচনা করেছে । আশফাক রানা ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছে যে পাকিস্তানি নেতারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) টাকা নষ্ট করেছেন। ওই সন্ত্রাসী বলেছে যে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে পাকিস্তান আজ সৌদি আরব বা ব্রিটেনের চেয়ে এগিয়ে থাকত, কিন্তু আজ পাকিস্তানের প্রতিটি শিশু ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
প্রসঙ্গত,কুখ্যাত আবু মুসা কাশ্মীরি, বর্ষীয়ান লস্কর-ই-তৈয়বার (জেকেইউএম) কমান্ডার । সে পাওলো জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার রাওয়ালকোটের হাজিরা তহসিলের তাত্রিনোটে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে একটা জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় “হিন্দুদের গর্দান কেটে কাশ্মীরের স্বাধীনতা” র কথা বলেছিল । ওই সন্ত্রাসী বলেছে, আমি প্রধানমন্ত্রী (উজির-ই-আজম) এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের বলেছি যে কাশ্মীর সমস্যা কেবল সন্ত্রাসবাদের (জিহাদ) মাধ্যমেই সমাধান হবে । পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার ঠিক আগেই একই রকম বক্তৃতা দিয়েছিল ওই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী ।।

