এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৭ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)কে নিজ বাড়িতে জবাই করে খুন করা হয়েছে । আজ রবিবার সকালে বাড়ির রান্না ঘরে সুবর্ণাদেবীকে এবং ডাইনিং হলে যোগেশবাবুর গলাকাটা রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা ।
যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন এবং ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর দুই ছেলে রয়েছেন—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে থাকেন এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে কর্মরত। স্বামী-স্ত্রী দুজনই গ্রামেই বসবাস করতেন।
প্রতিবেশীরা জানান,আজ অনেক বেলা পর্যন্ত দম্পতিকে বাড়ির দরজা না খোলায় তারা প্রথমে অনেক ডাকাডাকি করেন । কিন্তু তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মই বেয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকেন তারা৷ পরে প্রধান দরজার চাবি দিয়ে দরজা খোলার পর ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায় এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক দীপক চন্দ্র রায় জানান, তাঁর পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৪০–৫০ বছর ধরে ওই বাড়ির দেখভাল করে আসছে। প্রতিদিনের মতো সকালেও তিনি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে দেখেন সকাল ৭টার পরও কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে মই বেয়ে ভেতরে ঢুকে ডাইনিং হলে ও রান্নাঘরে তাদের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল ১০টার দিকে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে । পরে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় ।।

