পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),০৪ ফেব্রুয়ারী : মন্ত্রীর জনসভায় ফাঁকা মাঠের ছবি করার অপরাধে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জরুরি তলব পেয়ে বিডিও অফিসে এলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় । আজ বুধবার বিধায়ক সঙ্গে করে হামলাকারী তার দলের কয়েকজন ক্যাডারকে সাথে নিয়ে আসেন । তিনি বিডিও-এর উপস্থিতিতে এক মহিলা সাংবাদিকসহ আক্রান্ত বাকি সাংবাদিকদের সামনে ক্যাডারদের সতর্ক করে দিয়ে জানান যে ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হবে । পাশাপাশি ঘটনার দায় স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন বিধায়ক ।
প্রসঙ্গত,গত শনিবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানা এলাকার পূর্বস্থলীর ব্যাঙ কাটার মাঠে এস আই আর-এর শুনানির নামে হেনস্থার অভিযোগ তুলে একটি প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছিলেন পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় । সভায় মুখ্য বক্তা ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার । মন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝেই শ্রোতারা একে একে পালাতে শুরু করে । শেষ পর্যন্ত এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে মন্ত্রী মশাইকে কার্যত ফাঁকা মাঠেই বক্তব্য চালিয়ে যেতে হয় । ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় শাসকদলের নেতৃত্বকে । এদিকে শ্রোতাদের দলবেঁধে পালানোর দৃশ্য নিজের নিজের স্মার্টফোনে ভিডিও রেকর্ড করছিলেন সাংবাদিকরা । আর এতে বেজায় চটে যায় তৃণমূলের ক্যাডাররা । তারা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে । সেই সময় এক মহিলা সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন । কিন্তু তৃণমূলের ক্যাডাররা তাকেও রেয়াত করেনি । মারমুখি ক্যাডাররা ওই মহিলা সাংবাদিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে । পাশাপাশি চলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ । শেষ পর্যন্ত অন্যান্য সাংবাদিকদের তৎপরতায় আক্রান্ত মহিলা সাংবাদিক সহ অনান্য সাংবাদিকরা কোনওরকমে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন । এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে জেলার বিভিন্ন মহল থেকে ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার কালনা মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন কালনা মহকুমার সাংবাদিকরা । স্মারকলিপির সঙ্গে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও মহকুমা শাসকের কাছে তুলে দেন ৷ শাসকদলের এই প্রকার হিংসাত্মক আচরণে কার্যত শিহরিত হয়ে ওঠেন কালনা মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন । তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সাংবাদিকদের । অবশেষে আজ বুধবার কালনা মহকুমা শাসকের নির্দেশে পূর্বস্থলী-২ বিডিও অফিসে তলব করা হয় বিধায়ককে । আক্রান্ত সাংবাদিক সহ সেদিনের সভার মূল উদ্যোক্তা তথা বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ও হামলাকারী তিন মূল অভিযুক্ত বিডিও অফিসে আসেন । সেদিনের ঘটনায় বিডিও-র সামনেই অভিযুক্তরা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা স্বীকার করে । যদিও ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে কেউই এদিন সভাকক্ষে ক্যামেরা ব্যবহার করেননি। পরে বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে এইরকম ঘটনা ঘটলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে । আর যেহেতু সেদিনের সভা আমি ডেকেছিলাম, তাই ওই ঘটনার জন্য আমি নিজের দায় স্বীকার করছি । ভবিষ্যতে এই প্রকার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না ৷।

