এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ মার্চ : গতকাল নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলির পদবি বিকৃত করে “ডাংগুলি” বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তারই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘ব্লিচিং ফিনাইল দিয়ে ওর মুখটা পরিষ্কার করা আগে দরকার’ । পাশাপাশি আজ শুক্রবার বিধানসভার গেটের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত বেশ কয়েকজনের নাম তিনি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন ।
মুখ্যমন্ত্রীর “ডাংগুলি” মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০২১ সালে পরেশ অধিকারীর মেয়েকে অবৈধভাবে ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি দিতে গিয়ে, ববিতা দাস যে মামলা করেছিলেন সেই মামলার ফলশ্রুতিতেই তদানীন্তন বিচারপতি আজকের সংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী যে রায় দিয়েছিলেন যার ওপরে কালকে মুখ্যমন্ত্রী খুব রাগ দেখিয়েছেন, একজন প্রাক্তন বিচারপতিকে এবং বর্তমান সাংসদের পদবী বিকৃত করে বললেন ডাংগুলি । এটা অন্য ধর্মের লোককে করতে পারতেন না । তাহলে পশ্চিমবাংলায় যত গাঙ্গুলী আছে সবাই কি ডাংগুলি ? এটা মুখ্যমন্ত্রী ? ব্লিচিং ফিনাইল দিয়ে ওর মুখটা পরিষ্কার করা আগে দরকার । এত নোংরা ভাষা এত নোংরা কদর্য আক্রমণ উন্মাদের মত… ভাইপো মাল তুলেছে কুন্তল, সান্তনু, কালীঘাটের কাকুর মাধ্যমে, ভয়েস রেকর্ডে ধরা পড়েছে, ৭৩ মিনিটের ৭৩ বার অভিষেক ব্যানার্জি বলেছে, আর উনি কিচ্ছু জানেন না ! চোরের মায়ের লম্বা গলা । ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না। তিনি কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছেন ।’
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আজ বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ প্রকাশ্যে এনেছেন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও । তিনি বলেন, ‘ঘটনাটা ঘটতে পারে অনুমান করেই আমরা এসএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি পালিয়ে গিয়েছিলেন । আমরা তার সচিবের সঙ্গে দেখা করেছিলাম । শুনানিতে আমরা যেটা দেখেছি তাতে যোগ্য এবং অযোগ্য কে বাছাই করার জন্য রাজ্য সরকারকে অনেক সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । কিন্তু অযোগ্যদের বাঁচানোর জন্য রাজ্য সরকার সেটা করেনি ।’ তিনি বলেন,গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দিকভ্রান্ত হয়ে উন্মাদের মতো কতকগুলো অভিযোগ করেছেন৷ সেই সাংবাদিক সম্মেলন দেখে মনে হচ্ছিল “চোরের মায়ের লম্বা গলা” । উনি অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে বা প্যানেল বাতিল নিয়ে কোন প্রশ্ন করেননি । কেন হল কারা করল কার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করেননি ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’এই মুখ্যমন্ত্রীর সময়কালে গোটা ভারতবর্ষ কালিমালিপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে অভয়া কান্ড সহ । গতকাল মুখ্যমন্ত্রী বলেছে এসএসসি অটোনোমাস বডি । মুখ্যমন্ত্রী কি জানেন ২০১৩ সালের দপ্তরটা ব্রাত্য বসুর কাছ থেকে নিয়ে পার্থ চ্যাটার্জিকে দিলেন এবং অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মন্ডল কে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হলো,একটা সৎ মানুষকে,তারপরে এই পার্থ চ্যাটার্জি এসএসসির অটোনমিকে খতম করেছে অবসরপ্রাপ্ত অধিকারিক এসকে সিনহার নেতৃত্বে । একটা কমিটি তৈরি করেছিল যে কমিটির কাজ পার্থ চ্যাটার্জির বাঁশদ্রোনীর বাড়ি থেকে করা হতো ।’
শুভেন্দু অধিকারী আরো প্রশ্ন,’মুখ্যমন্ত্রী কি জানেন তার হোম পার্ট দপ্তর থেকে নিয়োগ করা ওএসডি এবং পিএস টু এডুকেশন মিনিস্টার, ডব্লিউবিসিএস ক্যাডারের অফিসার অভিজিৎ, তিনি এসকে সিনহার যে দল ছিল তার সদস্য ? মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এসএসসি অটোনমাস বডি । এসএসসির রটোনমি যে পার্থ চ্যাটার্জি খতম করেছেন ২০১৭ সালে, এটা কি মুখ্যমন্ত্রী জানা আছে? মুখ্যমন্ত্রী তার হোম পার্ট দপ্তর নিয়োগকৃত অফিসাররা মন্ত্রী সঙ্গে সংযুক্ত । তিনি এই রিক্রুটমেন্ট কমিটির মেম্বার হন কি করে ? এসএসসি সত্তাকে সরিয়ে এসকে সিনহা, কল্যাণময় গাঙ্গুলীরা কি করে নিয়োগ প্রক্রিয়াতে ঢোকে ? এটা কি মুখ্যমন্ত্রী জানেন না ? তাই মুখ্যমন্ত্রী তার মহাসচিব ব্রাত্য বসুকে ঘার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে যাকে তিনি মন্ত্রী করেছিলেন তাকে দিয়ে এটা করেছেন । এই যে ছয় হাজার অতিরিক্ত শূন্য পদ সৃষ্টি করার জন্য ক্যাবিনেটর রেজুলেশন ফর্মুলাটা, এটা কে বের করেছে ? মনিশ জৈন, এডুকেশন সেক্রেটারি, একজন করাপ্টেড আইএএস, তিনি এই ফর্মুলা বের করেছিলেন । এবং ভাইপো ঘনিষ্ঠ একটা ল ফার্ম, পরবর্তীকালে আমি নাম বলে দেব, তারা এর সঙ্গে যুক্ত।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সদ্য চাকরি হারানোদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী আবেদন জানান, ‘মমতা ব্যানার্জীর ভুলের খেসারত যে সমস্ত চাকরি প্রার্থীরা দিলেন তাদের বলব ৪৪ প্যারা পড়ুন । তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে লেখা আছে এমন কথা আমার চোখে পড়েনি । যারা আগে যেখানে কাজ করতেন সেই কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে যে যাদের ওএমআর ঠিক আছে ন্যায় বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তাহলে মাননীয় সর্বোচ্চ আদালত মানবিক এবং সহানুভূতির দিক দিয়ে বিষয়টি বিচার করবেন । ৯ বছর পর ফের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সমস্যার বিষয়ে ভাববেন সর্বোচ্চ আদালত ।।