এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,১৮ মার্চ : অবশেষে সরানো হল পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক (ডিএম) আয়েশা রানিকে । তার বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে কাজ করার একাধিকবার অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ গত বছরের নভেম্বরে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির পাল্লা ক্যাম্পে পরিবর্তন সংকল্প সভায় এসে শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানির নাম করে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি বে-আইনি কাজ করছেন। তিনি বলেছিলেন,’আমি হুগলি আর পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে জ্ঞানেশ ভারতীকে অভিযোগ জানিয়েছি। ওঁরা বিএলও-দের থেকে সরাসরি ওটিপি নিয়েছেন। যা কোনভাবেই পারেন না ।’ তিনি আরও বলেছিলেন,’বর্ধমানের জেলাশাসক এখানে আছেন বেআইনিভাবে। ইলেকশন কমিশনের গাইড লাইন অনুযায়ী ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার হওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই। বর্ধমানের জেলাশাসক তৃণমূলের বিধায়ক, নেতাদের ডেকে ডেকে বলছেন বিজেপি ভালো ভোটার লিস্ট করছেন আপনারা করছেন না কেন? এটা আয়েষা রানীর কাজ?’ বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ করেন, আয়ের উৎস না জেনে বিধায়ক খোকন দাসের পাঁচ টাকার খাবার প্রকল্প উদ্বোধন করতে জেলাশাসক কীভাবে যান?
অবশেষে আজ বুধবার নির্বাচন কমিশন যে ১৩ জন জেলা শাসক ও DEOকে বদল করল, তার মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক আয়েশা রানিও । বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বদলির কথা জানিয়েছে কমিশন। তাঁর জায়গায় বদলি হয়ে আসছেন শ্বেতা আগরওয়াল। তিনি আগে পূর্ব বর্ধমানে অতিরিক্ত জেলা শাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত,২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়েশা রানি । ২০০৯ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্যাডারের এই আইএএস এর আগে মেদিনীপুর ডিভিসিনের ডিভিশনাল কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আগে তিনি ঝারগ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুর সহ বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক ছিলেন । বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ যে আয়েশা রানি মেদিনীপুরে থাকার সময় থেকেই শাসকদলের প্রতি আনুগত্য দেখে আসছেন । এই প্রকার একজন ডিএম-এর উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন ।
আজ পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ,মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, দার্জিলিং, আলিপুর দুয়ারে জেলাশাসকদের বদলি করা হয়েছে। এই জেলাশাসকদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ তিন জন আইএএস, যাঁরা প্রত্যেকেই SIR-এর কাজে যুক্ত ছিলেন।।
