এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,২১ জানুয়ারী : গত ১৪ জানুয়ারী মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামের অনুগামীদের বিরুদ্ধে । বিডিও অফিস চত্বরে এস আই আর শুনানি ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বেধড়ক পেটানো হয় কয়েকজন অফিস কর্মীকেও । ওই হামলার ঘটনার অব্যবহিত পরেই বিডিও অফিসের মূল গেট আটকে এস আই আর নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণও দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম । সেই ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কোমরকে ঢিলা করে দেওয়া ও চারিদিকে আগুন জ্বালানোর” হুমকি দিলেন তিনি।
আজ একটা সভায় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই কঞ্চির ঝান্ডা চলবেনা । লাঠিতে পতাকা লাগিয়ে আনতে হবে । নির্বাচন কমিশনারের কোমরকে ঢিলা করে দিতে হবে । মানুষকে নিয়ে ছেলেখেলামো করছো ? আর তুমি নিরাপত্তা নিয়ে ঘেরাটোপের মধ্যে আছো, না । তোমাকে পাতাল থেকে ছেঁচড়ে বের করবো। আর আইন কার জন্য, মানুষের জন্য । তুমি নিজেই জানো না কখন কি বলছো ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রাখতে হবে । একটার পর একটা থাপ্পড় পড়ছে বিজেপির গালে । বিজেপিকে খুশি করতে গিয়ে আজকে বাংলার ১২ কোটি মানুষকে হেনস্থা করছে। তাই নির্বাচন কমিশনারকে আমি এখান থেকে বলতে চাই ওনাকে পদত্যাগ করা উচিত । ভাঁড় হয়ে গেছে, অযোগ্য লোক।’
উপস্থিত দলের ক্যাডারদের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলাম বলেন,’তাই সামনের দিনে আপনারা প্রস্তুত থাকুন । নিজে বাঁচার জন্য এবং আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য । আমি শুধু ইশারায় বলব, ১৯ তারিখে ফাইনাল লিস্ট বেরবে । তখন যদি সব ঠিকঠাক হয়,নচেত দেখবেন চারিদিকে আগুন আর আগুন জ্বলছে । কিচ্ছু করার নেই । ধুক ধুক করে মরার চাইতে লড়াই করে মরা আমি মনে করি জীবন সার্থক ।’
প্রসঙ্গত,গত ১৪ জানুয়ারী ফারাক্কা বিডিও অফিস ও শুনানি ক্যাম্পে ভাঙচুর ও হামলায় একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) এবং দুজন মাইক্রো অবজারভার গুরুতর আহত হন । পরে বিডিও- এর অভিযোগের ভিত্তিতে ফারাক্কা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৩২৯(৪), ২২১, ১৩২, ৩২৪(৩), ১১৫(২) এবং ৩(৫)-এর অধীনে “অজ্ঞাতনামা”দের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় । এর পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অপরাধে ‘প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ টু পাবলিক প্রপার্টি অ্যাক্ট’ (PDPP Act), ১৯৮৪-এর ৩ নম্বর ধারাটিও এই মামলায় যুক্ত করা হয় । পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে ‘এসআইআর ২০২৬’ (SIR 2026)-এর বিরোধিতার নামে ।
হামলার পর বিডিও অফিসের মূল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রেখে বিধায়ক মনিরুল ইসলাম “রাম-রহিম” নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণও দেন । তিনি বলেন, ‘রামের যখন নাম শুনছে তখন বলছে আপনার কিছু লাগবে না । আর রহিমের যখন নাম শুনছে তখন চৌদ্দ গুষ্টি ওর খতিয়ান চাইছে। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতার মানবনা । ভারতের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয় তাহলে মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে ।’।

