এইদিন ওয়েবডেস্ক,ফারাক্কা,১৪ জানুয়ারী : আজ বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কার বিডিও অফিস ও অফিস চত্বরে এসআইআর শুনানি ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালালো তৃণমূলের লোকজন । ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় চেয়ারপত্র । পরে দলীয় কর্মীদের সাথে বিডিও অফিসের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে “এসআইআর মানছি না, মানবো না” শ্লোগান তোলেন ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম । তিনি বলেন, ‘রামের যখন নাম শুনছে তখন বলছে আপনার কিছু লাগবে না । আর রহিমের যখন নাম শুনছে তখন চৌদ্দ গুষ্টি ওর খতিয়ান চাইছে। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতার মানবনা । ভারতের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয় তাহলে মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে ।’
তৃণমূল বিধায়ক বলেন,’ধর্মের নিরিখে নির্বাচন কমিশনা দ্বিচারিতা করছে । আমার কাছে রিপোর্ট আছে…হিন্দু ভাইয়েরা আমাকে বলেছে যে আমি আমার বাপের নাম উল্লেখ করলাম না, বলল কিছু লাগবে না । আর রহিম যখন বলছে তখন ওর চৌদ্দ গুষ্টির নাম চাইছে । বলছে তোমার সাতটা ছেলে আছে, তোমার বাপের পরিচয় দাও । আরে আমার ৭টা ছেলে আছে না ৯টা ছেলে আছে তোমার দেখার কি আছে । তোমার দেখার কি আছে নির্বাচন কমিশনার ?’ তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন,’লড়াই করে এই দেশকে স্বাধীন করেছি। আর ভারতের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয় তাহলে মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে । এই যে আন্দোলন চলছে এই আন্দোলনের আমরা যদি সুরাহা না পাই, এই যে ধরনা লাগলো, একটাও কাগজ আমরা দেখাবো না । মরতে রাজি আছে কিন্তু একটা কাগজও দেখাবো না ।’
তিনি আরও বলেছেন,’বিএলও-কেও নোটিশ ধরানো হচ্ছে । সাধারণ মানুষ কি খাবে ? এখানে দ্বিচারিতা চলছে ? তুমি জনগণের ভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছো । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছো । তুমি আধার কার্ডের মান্যতা দেবে না। তুমি ভোটার কার্ডের মান্যতা দেবে না । তুমি রেশন কার্ডের মান্যতা দেবে না । তুমি ১৯৮৪-৮২ এর হ্যান চাইছ,ত্যান চাইছ । তারপর তোমার সাতটা ছেলেপিলে আছে….তোমার এটা বাপ কিনা….এই নির্বাচন কমিশনকে আমরা মানছি না মানবো না ।’
জানা গেছে,এসআইআর শুনানি চলাকালীন আজ দুপুরে ফরাক্কা বিডিও অফিসে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । সকালের দিকে ব্লকের সমস্ত বুথ লেভেল অফিসাররা(বিএলও) বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন । তারা ইআরও-এর কাছে একযোগে নিজেদের ইস্তফাপত্রও জমা দেন । বিএলও- দের কথায়, তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে নয়, বরঞ্চ এর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে । তাদের দাবি, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নথি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট অ্যাপে আপলোড করেছেন । কিন্তু তারপরেও নতুন নতুন নথি চেয়ে পাঠানো হচ্ছে । বিভিন্ন সংশোধনের নির্দেশ আসছে । সাধারণ মানুষকে বারবার ডেকে পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন । আর তার সমস্ত দায়ভার বিএলও-দের উপর এসে পড়ছে। তার প্রভাব তাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনে পড়ছে বলে অভিযোগ বিএলও-দের । তাদের কথায়, বিএলও- দের মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে গেছে যে কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপ খুলতেই তারা ভয় পাচ্ছেন তারা । ক্রমাগত চাপের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএলও-রা ।
জানা গেছে,বিএলও-দের বিক্ষোভ দেখাদেখি তৃণমূলের বেশ কিছু লোকজনও বিডিও অফিসে এসে জড়ো হয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে । তারা বিডিও অফিসের মুল গেট অবরুদ্ধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এবং অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তোলে । ইতিমধ্যে আরো বেশ কিছু তৃণমূলের লোকজন এসে জড়ো হয়ে যায় । আসেন বিধায়ক মনিরুল ইসলামও । ক্রমে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ফরাক্কার বিডিও অফিস ও অফিস চত্বরে এসআইআর শুনানি ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে দেয় । ঘটনাকে ঘিরে বিডিও অফিসের কর্মীদের ও শুনানিতে আসা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।।

