“ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশগুলি থেকেই উগ্রবাদী তৈরি হয়”….একথা কোনো অমুসলিমের নয়,বলেছিলেন খোদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদেশ মন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ৷ ২০১৭ সালের একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,”এমন এক দিন আসবে, যেদিন আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে ইউরোপ থেকেই অনেক বেশি চরমপন্থী ও উগ্রবাদী সন্ত্রাসীকে বেরিয়ে আসতে দেখব—আর এর কারণ হবে নিছক অজ্ঞতা ও ‘রাজনৈতিক শুদ্ধতা’র (political correctness) ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্তসমূহ।”
আমিরাতের বিদেশ মন্ত্রীর এই মন্তব্য ভারতের ক্ষেত্রে কতটা প্রাসঙ্গিক তা তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী পাকিস্তানি বংশভূত প্রাক্তন মুসলিম ইমতিয়াজ মেহমুদ । তিনি গতকাল একটি তাৎপর্যপূর্ণ টুইট করেছেন । ইমতিয়াজ মেহমুদ লিখেছেন,’ফ্রান্সে মহম্মদের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয় — ভারতে দাঙ্গা বাধে। ডেনমার্কে কোরান পোড়ানো হয় — ভারতে দাঙ্গা বাধে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলে — ভারতে দাঙ্গা বাধে । লন্ডনে সালমান রুশদি একটি বই প্রকাশ করেন — ভারতে দাঙ্গা বাধে।গাজায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় — ভারতে দাঙ্গা বাধে। ইরানে আলী খামেনির মৃত্যু হয় — ভারতে দাঙ্গা বাধে।’
তিনি আরও লিখেছেন,’সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদেশমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একবার যথার্থই বলেছিলেন: উগ্রবাদী মুসলমানদের অধিকাংশই এমন সব দেশে তৈরি হয়, যেগুলো ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোতে এমনকি সুন্নিরাও যদি একবার প্রতিবাদ মিছিল বের করার চেষ্টা করে দেখে, তবেই বুঝতে পারবে যে আসলে কী ঘটে।’ তার কথায়, ‘এই দেশগুলোতে শিয়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় — তবুও সেখানে আলী খামেনির পক্ষে আওয়াজ তোলার সাহস কারো নেই। পক্ষান্তরে এখানে—সে সুন্নি হোক বা শিয়া—সবাই আইনের সীমার মধ্যেই অবস্থান করে। ‘ভারতের ধর্মান্তরিতরা’ (Converted of Bharat) তবে কী এমন বিশেষ সুবিধা ভোগ করে?’
একই কথা লিখেছেন ফারাজ পারভেজ নামে আরও এক পাকিস্তানি । তারা দু’জনেই ইসলামের কট্টরপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের প্রবল সমালোচক । প্রতি দিনই তারা এই বিষয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এক্স-এ পোস্ট করেন ।
তবে,ভারতে ভোটব্যাংকের স্বার্থে কিভাবে নির্লজ্জ তোষামোদের রাজনীতি করে কিছু তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল, তার নজির সম্প্রতি দিল্লিতে বামপন্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিলে দেখা গিয়েছিল । মিছিলটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খোমিনির হত্যার প্রতিবাদে । ওই মিছিলে একজন পক্ককেশ বামপন্থী মহিলা শ্লোগান তোলেন : “মোদী সরকার হোশ মে আও” । আসলে,হিন্দুত্ববাদী মোদীকে নিশানার নামে ভোটব্যাংকের স্বার্থে নির্লজ্জ তোষামোদির রাজনীতি আকছার দেখা যায় ওই সমস্ত ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির মধ্যে । ফলশ্রুতিতে বামপন্থী শাসিত কেরালায় কার্যত এপিসেন্টার করে তুলেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দ্বারা নিষিদ্ধ একটি উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠন । যাদের মূল লক্ষ্য ছিল, ভারতকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে ইসলামি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলা ।
এছাড়া, অপারেশন সিঁদূর ও পাকিস্তানে সিন্ধু নদীর জল বন্ধের প্রতিবাদেও কলকাতার রাজপথে শ্লোগান দিয়েছিল কথিত সেকুলার সিপিএম । যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হল, বিশেষ এক সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট করে তাদের ভোট হাসিল করা । কিন্তু এই তোষামোদি রাজনীতির সুযোগে যে তলায় তলায় দেশে উগ্র মতাদর্শের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে সেটা জেনেও তারা নজর ঘুরিয়ে রাখে । যার পরিনতি ভুগতে হয় নিরীহ মানুষদের ।।
