এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৪ ফেব্রুয়ারী : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ চন্দ্র বেজের বিরুদ্ধে তারই দলের এক মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে । ওই মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানের অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “তৃণমূল নেতাদের হাতে তৃণমূল মহিলা নেত্রীরাই সুরক্ষিত নয় ।” পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “অপরাজিতা বিল নিয়ে গলা ফাটানো লোকেরা এবার এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগবে”। যদিও ওই অডিও এর সত্যতা যাচাই করেনি এইদিন ৷
অডিও-তে এক মহিলাকে উত্তেজিতভাবে বলতে শোনা যায় যে নিজের এলাকায় বেহাল রাস্তার সংস্কারের জন্য গত মঙ্গলবার বিকাশ রঞ্জন বেজ তাকে পঞ্চায়েত সমিতের অফিসে ডেকেছিলেন । তারপর তাকে বিভিন্ন অছিলায় দু তলার একটা ফাঁকা ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে যায় । ঘরে থাকা খাটে তাকে বসতে বলে৷ দরজা লাগানোর কথা বলে । কিন্তু তিনি তার কোন কথা না শুনে দাঁড়িয়ে থাকেন । এরপর বিকাশ রঞ্জন উঠে এসে তার গালে চুমু খেতে শুরু করেন । তিনি তার মতলব বুঝতে পেরে ঘর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসেন । মহিলা জানান যে তিনি বিবাহিতা এবং স্বামীকে ঘটনার কথা জানান । তিনি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,”দলেরই এক পঞ্চায়েত প্রধান মহিলার সঙ্গে যদি বিকাশ রঞ্জন এই কাজ করে, তাহলে সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে সে কি আচরণ করবে ? তিনি বিষয়টি বিডিও থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কানে তুলবেন জানাবেন বলে জানিয়েছেন ।
শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,”তৃণমূল নেতাদের হাতে তৃণমূল মহিলা নেত্রী, পদাধিকারিদেরই সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নেই পশ্চিমবঙ্গে !!!” তিনি লিখেছেন,”এই ভাইরাল কথোপকথনের অডিও ক্লিপে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ৩ ব্লকের জনৈক মহিলা প্রধানকে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার যে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে শোনা যাচ্ছে, তাও আবার সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে, তা সুশীল সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।এটাই হলো রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তার করুণ অবস্থা। একজন মহিলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সরকারি কার্যালয়ে নিরাপদ নয় !”
তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রতিনিয়ত যৌন হেনস্থার ঘটনা নারীদের জীবন, স্বাধীনতা ও সমতার মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে চলেছে। নারীদের কাজে যোগ দেওয়ার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে এই ধরনের পরিবেশ, রাস্তায় ও কর্মস্থলে, উভয় ক্ষেত্রেই। এই পরিস্থিতির কারণেই নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় মহিলাদের। বিশেষ করে তৃণমূল নেতা কর্মী, তৃণমূল দলের সম্পদ – লুম্পেন গুন্ডা সমাজবিরোধীরা তাক করে বসে থাকে কখন সুযোগ নেবে। পুলিশ এদের ছাড় দিয়ে রেখেছে, তাই এদের এত দুঃসাহস ও বাড়বাড়ন্ত।”
এরপর শুভেন্দু অধিকারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন,”যারা কথায় কথায় অপরাজিতা বিল নিয়ে গলা ফাটায় তারাই দেখবেন উঠে পড়ে লেগেছে কিভাবে এই ঘটনা কে ধামাচাপা দেওয়া যায়। সব রকম প্রয়াস করবে যাতে নেতাকে বাঁচানো যায়।” পাশাপাশি তিনি দাবি জানান, “আমি মারিশদা থানার ওসি, কাঁথির এসডিপিও ও পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কে বলবো রাজনৈতিক রঙ না দেখে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্ত করুন ও অভিযোগ সত্যি হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করুন অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে।” যদিও এই অভিযোগের এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার পক্ষ থেকে ।।

