এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুসকরা(পূর্ব বর্ধমান),২৭ জানুয়ারী : রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণে মন্দিরের মত পবিত্র স্থানেও ঢুকে গেলো “আমরা-ওরা” রাজনীতি ! এমনই “ঘৃণ্য রাজনীতির” স্বাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার প্রাচীন রটন্তীকালী মন্দিরে আসা পূণ্যার্থীরা । দিলীপ ঘোষ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেতা হওয়ার অপরাধে তাঁকে মন্দিরের তৃণমূলপন্থী পুরোহিত তিলক পরানো তো দুরের কথা প্রসাদই দিলেন না বলে অভিযোগ । সেই সময় দেবীর পূজো করছিলেন সোমরাজ চোংদার । তিনি রাজ্যের অন্যতম একজন বর্ষীয়ান ও সুপরিচিত নেতা দিলীপ ঘোষকে দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন বলে অভিযোগ বিজেপির । শেষ পর্যন্ত দেবীর আশীর্বাদ না দিয়েই ফিরতে হয় দিলীপ ঘোষকে । উল্লেখ্য, পুরোহিত সোমরাজ চোংদার হলেন গুসকরা শহর তৃণমূল সভাপতি মল্লিকা চোংদারের নিজের ভাসুর । একজন পুরোহিত হয়েও তার এই প্রকার আচরণের সমালোচনা করেছে বিজেপি ও এলাকার সাধারণ মানুষ । বিজেপির গুসকরা নগর কমিটির সভাপতি দেবযানী গড়াই বলেন,’দিলীপদা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও পুরোহিত তাঁর দিকে ফিরেও তাকাননি । পরে বারবার ডাকা হলেও তিনি ব্যস্ততার অছিলায় গুরুত্ব দেননি ।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তৃণমূলের উচিত মন্দিরকে অন্তত রাজনীতি মুক্ত রাখা ।’
আজ গুসকরা স্কুলমোড়ে একটি চায়ের দোকানে ‘চায়ে পে চর্চা’য় যোগ দেন দিলীপ ঘোষ । সেখানে সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘটে সিপিএমের শিক্ষক সংগঠনের নেতা সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে। লাল পাঞ্জাবি পরিহিত সানোয়ার হোসেন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে করমর্দনও করেন । তিনি বলেন,’রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সৌজন্যবোধ সমাজে বজায় থাকা উচিত।’ কিন্তু সিপিএমের এক নেতা সৌজন্য দেখালেও রটন্তীকালী মন্দিরে গিয়ে তৃণমূলপন্থী পুরোহিতের অসৌজন্যের শিকার হতে হয় তাকে।
জানা গেছে, গুসকরার প্রাচীন রটন্তীকালী মন্দিরের সেবাইত হল গুসকরা শহর তৃণমূল সভাপতি মল্লিকা চোংদারের শ্বশুরবাড়ি । ‘চায়ে পে চর্চা’র পর দিলীপ ঘোষ গুসকরা নদীপট্টি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন । তারপর তিনি যান প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন রটন্তীকালী মন্দিরে । সেই সময় দেবীর পুজোর দায়িত্বে ছিলেন মল্লিকা চোংদারের ভাসুর সোমরাজ চোংদার । দিলীপ ঘোষ যাওয়ার আগে থেকেই বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন মন্দিরে । দিলীপ ঘোষ প্রণাম করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও পুরোহিতের তরফে তিলক বা প্রসাদ না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে মন্দির ত্যাগ করেন।
যদিও পুরোহিত সোমরাজ চোংদারের সাফাই হল, ‘আজ মঙ্গলবার শুক্লপক্ষ হওয়ায় ভিড় বেশি ছিল এবং সকলের পুজো শেষে দিলীপ ঘোষের পুজো করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করেই চলে যান।’ যদিও বিজেপির তার এই দাবিকে মিথ্যা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছে । এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে গুসকরা শহরজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা। সাধারণ মানুষ পুরোহিতের মানসিকতার সমালোচনা করেছেন ।।

