এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২৮ ফেব্রুয়ারী : আজ চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ আর নয়া ভোটার তালিকা হাতে পেতেই পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-১ ব্লকের বুথ লেভেল অফিসারদের(বিএলও) কার্যত মাথায় হাত পড়ে গেছে । কারন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারনে বহু বিএলও-কে রাখা হয়েছে ’বিচারাধীন ভোটার’-এর তালিকায় । যা ঘিরে তোলপাড় পড়ে গেছে এলাকায় । এখন তারা আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনে আদপেই ভোট দিতে পারবেন কিনা এনিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে ।
জানা গেছে,ওই বিএলও-দের মধ্যে রয়েছেন আয়েশা খাতুন। তিনি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা । কাটোয়া বিধানসভার ১২ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন ।তিনি নিজেই জানান, নতুন ভোটার লিস্ট হাতে পেয়ে দেখে তার বুথের যে ৩৫০ জনের শুনানিতে ডাক পড়েছিল, তার মধ্যে ২৯৪ জনের নামের পাশে ’বিচারাধীন’ লেখা রয়েছে। আর ’বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত রয়েছে তার নামও । তিনি বলেন,’কেন এমন হল কিছুই বুঝতে পারছি না । এবারে ভোট দিতে পারব কিনা জানিনা । খুব দুঃশ্চিন্তায় আছি ।’ তিনি আরও জানান যে তার বুথের ২৮ জনের নামের পাশে ’ডিলিট ’ লেখা রয়েছে । অর্থাৎ তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ।
একই ঘটনা ঘটেছে কাটোয়া বিধানসভার ১০ নম্বর বুথের বিএলও এবং পেশায় শিক্ষক আতিয়ার রহমানের সঙ্গেও । তিনি বলেন,’চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে দেখি আমার নামের পাশেও ’বিচারাধীন’ উল্লেখ করা রয়েছে ।’ তিনি জানান,তার বুথে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস । শুনানিতে তাকে নিয়ে ডাক পড়েছিল ২৬৮ জনের বেশী ভোটারের ।
জানা গেছে,আয়েশা খাতুন ও আতিয়ার রহমানের মত এমন অনেক বিএলও রয়েছেন যাদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারনে ’বিচারাধীন ভোটার’-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।
যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে প্রাথমিক যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এই চিহ্নিতকরণ হয়েছে। যথাযথ নথি দেখালেই পুনরায় সংশোধন করে দেওয়া হবে । তবে নির্বাচন কমিশন যাই বলুক না কেন,ওই বিএলও- দের মধ্যেও ‘ডিলিটেড’ হওয়ার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে । তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ।।

