উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কিং জর্জ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ে (KGMU) “লাভ জিহাদ” র্যাকেট পরিচালনাকারী ডঃ রমিজের পুরনো ফোনের সমস্ত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে আর একটি ফোন পাওয়া গেছে এবং এর সমস্ত তথ্যও উদ্ধার করেছে ইউপি সাইবার ক্রাইম বিভাগ । পুলিশের মতে,সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডঃ রমিজের সঙ্গে কেরালা ভিত্তিক নিষিদ্ধ উগ্র ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীর (পি#আই) যোগসূত্র মিলেছে । সে ওই গোষ্ঠীর কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিল বলে জানতে পারা গেছে । ওই লাভ জিহাদি ডাক্তারকে লখনউয়ের ঠাকুরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইউপি পুলিশ ৷
কেরালা ভিত্তিক ওই নিষিদ্ধ উগ্র ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীটি কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রক প্রথম দফায় ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ৷ ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে তারা কেরালায় রীতিমতো জিহাদি প্রশিক্ষণ শিবির পর্যন্ত চালাচ্ছিল । যেখানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পর্যন্ত চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ । এহেন গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সদস্য ডঃ রমিজকে বিস্তারিত নির্দেশিকা দিয়েছিল যে কীভাবে সর্বাধিক বেশি সংখ্যক হিন্দু মেয়েকে, বিশেষ করে শিক্ষিত ডাক্তারদের, মুসলমানে পরিণত করা যায়, তাদের ব্রেনওয়াশ করে, লাভ জিহাদে ফাঁদে ফেলে, তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তারপর ভিডিওর ভিত্তিতে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে ধর্মান্তরিত করা যায়। সেই লক্ষ্যে ওই নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা তাকে বিভিন্ন নির্দেশিকা দিয়েছিল ।
শুধু ডঃ রমিজই নয়,তার বাবা-মাও একটি ধর্মান্তর র্যাকেট চালাচ্ছিল । তার বাবা চারজন হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত করেছিল, যাদের মধ্যে তিনজনকে তিনি বিয়ে করেছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন পাঞ্জাবি মেয়ে ছিল। তার বাবা লাভ জিহাদ প্রচারকারী বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের সাথেও যুক্ত ছিল বলে ইউপি পুলিশের তদন্তকারী দল জানতে পেরেছে ।
প্রসঙ্গত,KGMU লাভ-জিহাদ কেলেঙ্কারি ছাঙ্গুরের চেয়েও বড় বলে মনে হচ্ছে। ডঃ রমিজ এবং তার জিহাদি ছাত্র গ্যাং শত শত হিন্দু মেয়ের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা KGMU-এর প্রতিটি স্তরের অনুষদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে। আর রমিজ নিজেও প্রায় ১৫ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলেছিল । ওই লাভ জিহাদি গ্যাংয়ের সঙ্গে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলির যোগসূত্র খুঁজছে তদন্তকারী দল ।
কেজিএমইউ ধর্মান্তর কেলেঙ্কারি মামলায় তিন রাজ্য জুড়ে অনুসন্ধান এবং গ্রেপ্তারি অভিযান চলছে । তদন্তে নতুন এক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আর সেটা হল ডঃ রমিজ মালিকের কুখ্যাত ধর্মান্তর চক্রের নেতা ‘চাঙ্গুর বাবা’ ওরফে জামালুদ্দিনের সাথে সম্ভাব্য সংযোগ । চাঙ্গুর বাবা এবং তার দল বলরামপুরের চাঁদ আউলিয়া দরগা থেকে ১০০ কোটি টাকার একটি আন্তর্জাতিক ধর্মান্তর চক্র পরিচালনা করছিল, “লাভ জিহাদ” এর মাধ্যমে হিন্দু মেয়েদের প্রলুব্ধ করতে ওই অর্থ ব্যবহার করা হয় । ধর্মান্তরের হার ছিল ৮-১৬ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রমিজ একজন ধর্মগুরুর মাধ্যমে চাঙ্গুর বাবার সাথে দেখা করেছিল এবং চাঙ্গুর বাবার গ্রেপ্তারের পর থেকে সে অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়ে ।
পুলিশ এখন তদন্ত করছে যে রমিজ এই সংগঠিত নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য কিনা। গত ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে, লখনউ পুলিশ ঠাকুরগঞ্জের মমতাজ কোর্ট অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডঃ রমিজের বাবা, সলিমুদ্দিন (৭০) এবং মা খাদিজা (৬৭) কে গ্রেপ্তার করে। উভয় ভুক্তভোগী (কেজিএমইউ ডাক্তার এবং আগ্রার ডাক্তার) ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে লিখিত বিবৃতি দিয়ে বলেছেন যে রমিজের বাবা-মা ধর্মান্তর এবং গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল । তারা স্থানীয় কাজীকে খুঁজে বের করা,জাল নথি তৈরি করা এবং নিকাহের জন্য সাক্ষী সংগ্রহ করার কাজ করত ।
পিলিভিতের নেওয়ারিয়া শহরের কাজী “জাহিদ হাসান রানা”, যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমিজ এবং তার প্রথম স্ত্রীর বিয়ে সম্পন্ন করেছিল, তাকেও এই লাভ জিহাদ গ্যাংয়ের একটা চাঁই বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লখনউ পুলিশ পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করে, যারা তিনটি রাজ্যে রমিজের খোঁজ শুরু করে৷ প্রথমে উত্তরাখণ্ড – খাতিমা: রমিজের সর্বশেষ অবস্থান ছিল খাতিমা, যেখানে তার বাবা একজন মেডিকেল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত । পুলিশ দল এসে পৌঁছায়, কিন্তু রমিজ তার আগেই পালিয়ে যায়।৬-৭ জানুয়ারী, পুলিশ পিলিভিতের নুরিয়া শহরে রমিজের পৈতৃক বাড়িতে অভিযান চালায়, কিন্তু জানতে পারা যায় যে বাড়িটি ইতিমধ্যেই দান করা হয়েছে। পুলিশ সেখানে বাড়িটি বাজেয়াপ্তির একটি নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়ে আসে । তিনটি রাজ্য জুড়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করার পর, অবশেষে জানা যায় যে রমিজ লখনউ শহরে তার এক বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে লুকিয়ে আছে।
পুলিশ প্রথমে ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যা পরে ৫০,০০০ টাকা করা হয়। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। ১৭ দিন ধরে তল্লাশি, তিন রাজ্য জুড়ে তল্লাশি, তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার এবং ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পর, পুলিশ অবশেষে ৯ জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে লখনউতে ডঃ রমিজ মালিককে গ্রেপ্তার করে।সে শহরের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে লুকিয়ে ছিল।পুলিশ রমিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে । তার কাছে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ : অন্য কোন ভুক্তভোগী আছে কিনা,তার গ্যাং ঠিক কতজন মেয়েকে ফাঁদে ফেলেছিল,চাঙ্গুর বাবার গ্যাংয়ের সাথে তার সরাসরি সম্পর্ক ছিল কিনা এবং কেজিএমইউ-এ আর কারা এই গ্যাংয়ে জড়িত প্রভৃতি।
বিশাখা কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে, তার ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে, এবং তার ভর্তি বাতিলের সুপারিশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ডিরেক্টরেট জেনারেল (ডিজিএমই) -এর কাছে পাঠানো হয়েছে। এনআইএ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) -এর মতো সংস্থাগুলিও এই মামলায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পাশাপাশি কেজিএমইউ প্রশাসন ক্যাম্পাস জুড়ে নোটিশ টাঙিয়ে, জোরপূর্বক ধর্মান্তর বা হয়রানির শিকার যেকোনো মহিলাকে একটি সিল করা খামে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ হোস্টেল রুম দেওয়া হয়েছে, যেখানে মহিলা নিরাপত্তা কর্মীরা ২৪ ঘন্টা মোতায়েন রাখা হয়েছে । তাকে আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই পুরো পর্বটি কেবল একজন ভুক্তভোগীর গল্প নয় – এটি একটি বৃহৎ, সংগঠিত এবং আন্তর্জাতিক ধর্মান্তর নেটওয়ার্কের আরেকটি দিক যা দেশের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিতেও অনুপ্রবেশ করেছে।ছাঙ্গুর বাবা, তার ১০০ কোটি টাকার র্যাকেট, “লাভ জিহাদের পদ্ধতিগত খেলা”, কাজী এবং পরিবারের সদস্যদের যোগসাজশ – এই সবই একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র । কিন্তু এবার যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন – যেই দোষী সাব্যস্ত হোক না কেন, তাকে রেহাই দেওয়া হবে না। নির্যাতিতার সাহস, মহিলা কমিশনের সমর্থন, বিশাখা কমিটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তিনটি রাজ্যের পুলিশের কঠোর পরিশ্রম – এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে উত্তর প্রদেশে “লাভ জিহাদ” এবং ধর্মান্তরের যে কোনও প্রচেষ্টা যোগী আদিত্যনাথ আর বরদাস্ত করবেন না । এখন যেহেতু চক্রের মূল পান্ডা ডঃ রমিজ মালিক হেফাজতে রয়েছে তাই সত্য স্তরে স্তরে প্রকাশিত হতে চলেছে – এবং এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ সংগঠিত ষড়যন্ত্রকে উন্মোচিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে ।।

