পারমিতা দত্ত,নদীয়া,০৯ জানুয়ারী : তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাইপো মাঝেমধ্যেই একটা না একটা প্রতিজ্ঞা করে বসেন । আজ নদীয়া জেলার তাহেরপুরে দলের “জনসংকল্প সভা”য় ভাষণ দিতে গিয়ে ফের এমনই একটা প্রতিজ্ঞা করে বসলেন তিনি । তিনি দাবি করেছেন যে নরেন্দ্র মোদীর ১১ বছরের শাসনকাল ও মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনকালের তুলনামূলক উন্নয়ন নিয়ে টিভি চ্যানেলে “ওপেন ডিবেট”-এ তিনি বিজেপিকে যদি “ভো কাট্টা” করতে না পারেন তাহলে তিনি আর কখনো জনসমক্ষে মুখ দেখাবেন না ।
অভিষেক বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, ‘যদি বুকের পাটা থাকে তাহলে তথ্য পরিসংখ্যানের নিরিখে আমার সাথে লড়াই করতে মঞ্চ বাছুন । কোন মাঠে লড়বেন,কোন সংবাদপত্রের কোন প্রতিনিধি থাকবেন, যদি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বলতে চান তাহলে সময় বাছুন, চ্যানেল বাছুন,আপনি আপনাদের ১১ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসবেন,আর আমি মমতা ব্যানার্জি র সরকারের ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসব, “ভো কাট্টা” করে যদি মাঠের বাইরে বের করতে না পারি তাহলে মানুষের সামনে কোনো দিন মুখ দেখাব না । তৈরি আছেন ? ক্ষমতা আছে বিজেপির নেতা সাংসদদের ?’
সেই সাথে এদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণীও শোনা যায় অভিষেকের মুখে ৷ গীতায় পঞ্চম অধ্যায়ের ১৮ নম্বর শ্লোক : “বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি /
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ” আওড়ে তিনি ব্রিগেডের গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করা হকারকে মারধরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের “জল্লাদ” বলে কটাক্ষ করেন । তবে এদিনও যথারীতি অভিষেকের প্রধান নিশানায় ছিল এসআইআর । একদিকে যেমন মতুয়া সম্প্রদায়কে “আগে নাগরিকত্ব,পরে ভোট” দেওয়ায় পরামর্শ দেন । পাশাপাশি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও তৃণমূলের সাংসদ ও অভিনেতা দেবকান্ত অধিকারী বা দেবকে এস আই আর-এর শুনানিতে ডেকে পাঠানোর সমালোচনা করেন তিনি ।
এদিন নদীয়ার মাটি থেকে ১৭ টি বিধানসভায় ১৭টিতেই জয়ের মাইল ফলক বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীয়ার কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা এবং রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সমস্ত মানুষজনকে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপিকে উৎখাত করতে একটি বিশেষ বার্তা দেব অভিষেক । আর সেটা হল চিটফান্ড সংস্থার “পঞ্জি স্কিম”-এর আদলে প্রতি তৃণমূল কর্মীকে ১০ জন করে মানুষের কাছে গিয়ে বিজেপির ‘প্রকৃত স্বরূপ’ উন্মোচন করা । তবে আজও যথারীতি কয়লা পাচার মামলায় আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে ইডির হানার বিষয়ে বিশেষ মুখ খোলেননি অভিষেক ব্যানার্জি । শুধু তিনি অভিযোগ করেন যে ইডি, সিবিআই প্রভৃতি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে ব্যবহার করছে মোদী সরকার৷।

