এইদিন ওয়েবডেস্ক,বীরভূম,০২ মার্চ : মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কমিউনিস্টদের থেকে খতরনাক বললেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ । আজ সোমবার বীরভূমের হাসনে দলের “পরিবর্তন যাত্রা” সভায় তোষামোদী রাজনীতি, শিল্পায়ন, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রভৃতে একাধিক ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জিকে কার্যত তুলোধুনো করেন তিনি । দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন,’একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গকে শেষ করে দিয়েছিল কমিউনিস্টরা । মমতা দিদি যখন এলো তখন ভেবেছিলাম এই কমিউনিস্টদের থেকে আলাদা কিছু তো উনি করবেন । পশ্চিমবঙ্গ ফের উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে । কিন্তু দিদি কমিউনিস্টদের থেকে খতরনাক প্রতিপন্ন হয়েছেন । দিদি তো কমিউনিস্টদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছে । দিদি যেভাবে বাংলাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের একত্রিত হতে হবে ।’ তিনি বলেন,’মা-মাটি আর মানুষের কথা বলা দিদি, না মাকে দেখেছে, না মাটিকে দেখেছে,না মানুষকে দেখেছে । ওনার তো কেবল ক্ষমতা চাই । ক্ষমতার জন্য যা কিছু উনি করতে পারেন । প্রতিদিন দুর্নীতি হচ্ছে । টাকার হেরাফেরি হচ্ছে । শিক্ষক নিয়োগে ভুয়ো নিয়োগ হচ্ছে, টাকা খাচ্ছে । এসএসসি -তে দুর্নীতি হচ্ছে । পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতি হচ্ছে । মানব পাচার হচ্ছে। বাংলায় ভ্রষ্টাচার-দুরাচার- অনাচার হচ্ছে ।’
রাজ্যের শিল্পায়ন, দুর্নীতি,বেকারত্ব, তোষামোদি প্রভৃতি একাধিক ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ । তিনি বলেন,’একটা সময় ছিল যখন বাংলা এবং মহারাষ্ট্র, কলকাতা এবং মুম্বাই, দেশের আর্থিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল । ইংরেজরাও কলকাতার গুরুত্ব বুঝত । ওরা জানত যে ভারতে আর্থিক উন্নতি করতে হলে বাংলার উপর রাজত্ব করতে হবে । এই কারণে ভারতের প্রথম আর্থিক রাজধানী মুম্বাই ছিল না। ভারতের প্রথম আর্থিক রাজধানী কলকাতাকে করা হয়েছিল। মহারাষ্ট্র এবং বাংলা একসাথে শুরু করেছিল।
কিন্তু এখন যখন বাংলার দিকে তাকাই, দুঃখ হয় । এখন ভারতের আর্থিক রাজধানী কলকাতা নয়। ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাই হয়ে গেছে । অন্যদিকে বাংলার অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন,’এখানে মমতা দিদি যেভাবে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছেন, আজ বাংলায় শিল্পায়ন বন্ধ হয়ে গেছে । বাংলা এই বিগত পাঁচ বছরের ৩৭ টা স্টেট কোম্পানি তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে আর ৭০০০ এর অধিক কোম্পানি বাংলা ছেড়ে চলে গেছে । ওরা বলছেন যে মমতা দিদির বাংলায় ব্যবসা করা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন,’একটা সময় দেশের যত ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট আসতো তার শীর্ষ ভাগে থাকতো বাংলা । গোটা দুনিয়ার লোক বাংলায় এসে বিনিয়োগ করত । কিন্তু আজকের পরিস্থিতি কি ? আজ দেশে যত ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট আসছে তার ৩৭ শতাংশ মহারাষ্ট্রে আসে । বাংলায় কত আসে জানেন ? দশমিক ছয় শতাংশ । কেবল অর্ধ শতাংশ । তার মানে বাংলাকে উদ্যোগের কবরস্থান করে দেওয়া হয়েছে ।’
দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন,’মমতা দিদি যেরকম রাজনীতি শুরু করেছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব দ্রুত বাড়ছে । মোদিজীর নেতৃত্বে গোটা দেশ আগে এগুচ্ছে । আমাদের ভারত বিশ্বের তৃতীয় আর্থিক শক্তি হয়ে গেছে। ভারতের অনেক পিছিয়ে পড়া রাজ্য আগে চলে গেছে। বিহার আগে চলে গেছে । উড়িষ্যা আগে চলে গেছে । একের পর এক রাজ্য এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে বাংলা এক সময়তে প্রথম সারিতে ছিল আর আজকে কি অবস্থা ?’
দেবেন্দ্র ফরনবীশ বলেন,’আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে আমাদের দেশের জিডিপিতে বাংলার তৃতীয় স্থান ছিল । কিন্তু মমতা দিদির নেতৃত্বে এই বাংলা আজ তৃতীয় স্থান থেকে বাইশ তম স্থানে চলে গেছে। যখন এইরকম পতন হবে তখন বেকার যুবক- যুবতীরা চাকরি কিভাবে পাবে ? কিভাবে রোজগার পাবে তারা? তাই বন্ধুরা এই লড়াই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর জন্য নয় । বাংলার প্রতিটা মানুষের জীবনের পরিবর্তন আনার লড়াই ।’
তিনি অভিযোগ করেন,’পশ্চিমবঙ্গে কোন সেচের ব্যবস্থা নেই । কৃষকদের প্রতি মমতা ব্যানার্জির নজর দেওয়ার কোন ফুরসৎই নেই । মমতা দিদি শুধু তোষামোদের রাজনীতি করতে জানে । মমতা দিদির চাই বাংলার প্রকৃতিকে বদলে দিতে । বাংলার জনবিন্যাসকে পরিবর্তন করে দেবে । আর আর জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে উনি বাংলায় রাজত্ব করতে চান ।’
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনবিন্যাসের দ্রুত পরিবর্তনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’আপনারা দেখুন কিভাবে এই রাজ্য থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছে । আমাদের মুম্বাইয়ে গিয়ে ছোট ছোট কাজ করছে । অথচ তাদের এখানে কাজ পাওয়া দরকার ছিল । কিন্তু বেচারাদের এখানে কাজ জুটছে না। ফলে তাদের এই রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে মুম্বাইয়ে যেতে হচ্ছে । তবে আপনারা চিন্তা করবেন না, আমরা ওদের মুম্বাইতে ভালোভাবেই রাখবো ।’ তিনি বলেন,’কিন্তু আমরা চাই যে আপনারা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি আনুন । যাতে তারা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে রোজগার করতে পারে । এই স্বপ্ন আমরা দেখি । কিন্তু মমতাদিদি তো আবার ভিন্ন স্বপ্ন দেখেন । মমতা দিদি চায়, এখানকার মানুষ পালিয়ে যাক । আর বাংলাদেশিররা এসে আপনাদের রোজগার কব্জা করুক, এখানে এসে ঘাঁটি গেড়ে আমাদের দেশকে খোকলা করে দিক । এই প্রকার রাজনীতি চলছে বাংলায় । মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া,পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের যে অবস্থা হয়েছে, আপনারা বিশ্বাস করুন, এরপর বাংলায় যদি পরিবর্তন না হয়, আমি জানিনা, আগামী দিনে মা তারার দর্শন করতে পারব কিনা । বাংলায় সেই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ।’।

