এইদিন বিনোদন ডেস্ক,০৪ এপ্রিল : দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রকাশ রাজের মা স্বর্ণলতা ৮৬ বছর বয়সে ২৯শে মার্চ, ২০২৬-এ পরলোকগমন করেছেন। অভিনেতা খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী তাঁর মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং গির্জার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রকাশ রাজের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, নিজেকে ‘নাস্তিক’ বলে দাবি করা প্রকাশ রাজকে গির্জায় দেখে সবাই অবাক হয়েছেন।
নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ধর্মে বিশ্বাসী না হয়েও প্রকাশ রাজকে কেন খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী তাঁর মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হলো। মানুষ আরও জিজ্ঞাসা করেছে, “তিনি যদি নাস্তিকই হন, তাহলে গির্জায় তাঁর কী কাজ? আর নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও যদি তিনি খ্রিস্টান রীতিনীতিকে সম্মান করেন, তাহলে কেন তিনি হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন?”
এদিকে নিজেকে কোণঠাসা দেখে প্রকাশ রাজ আত্মপক্ষ সমর্থনে ছুটে আসেন এবং বলেন যে তিনি তাঁর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবশতই এমনটা করেছেন, যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রকাশ রাজ এক্স-এ লেখেন, “হ্যাঁ, আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার মা তাঁর ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার আমি কে? এটাই হলো একে অপরের প্রতি আমাদের ন্যূনতম সম্মান। তোমরা, বিদ্বেষকারীরা, এটা কি বুঝবে?”
এই সেই প্রকাশ রাজ, যিনি হিন্দুদের অপমান করতে কোনো কসরত বাকি রাখেন না। তিনি নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করেন এবং সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, অথচ খ্রিস্টধর্মের সমস্ত আচার- অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আর যখন ট্রোলড হন, তখন তিনি সাধারণ সম্মানবোধের কথা বলে নিজেকে একজন পণ্ডিত হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। এখানে সমস্যাটা প্রকাশ রাজের খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাস নয়, বরং হিন্দুদের অপমান করার তার ইতিহাস। এই কারণেই প্রকাশ রাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, কারণ সনাতন ধর্মকে অপমান করে করা তার অশ্লীল মন্তব্যগুলো মানুষ ভোলেনি।
সনাতন ধর্ম ডেঙ্গুর মতো, এবং একে নির্মূল করতেই হবে। রামলীলা একটি “শিশুদের নীল ছবি, যা মুসলমানদের জন্য বিপজ্জনক ও ভীতিপ্রদ” । জনসমক্ষে এমন গর্বের সাথে প্রকাশ রাজ এই ধরনের আরও অনেক মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার আশেপাশে হিন্দিভাষী মানুষদের দেখতেও পছন্দ করেন না, আর একারণেই তিনি চলচ্চিত্রে তাদের বিরুদ্ধে হিংসার দৃশ্য অভিনয় করেন।
এই লোকটি শুধু নিজেই বিষ ছড়ায় না, বরং যারা সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ায়, তাদেরও উৎসাহিত করে। সে ব্রাহ্মণ নারী ও শিশুদের শিরশ্ছেদের স্বপ্ন দেখা কোনো ব্যক্তিই হোক, বা কোনো অভিনেত্রী যিনি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যার সাথে গো-পাচারকারীদের উপর হামলার যোগসূত্র স্থাপন করেন, প্রকাশ রাজ তাদের সবাইকে উৎসাহিত করতে এগিয়ে আসেন।পরিহাসের বিষয় হলো, এমন বিদ্বেষপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পরেও, যারা তাকে প্রশ্ন করে, তাদের তিনি ‘দানব’ বলে ডাকেন। আমরা কেন তাদের প্রশ্ন করব না? যখন একদিকে আপনি হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ান, আর অন্যদিকে খ্রিস্টধর্ম পালনে লজ্জিত হন না । এবং সর্বপোরি “নাস্তিক” হওয়ার ভান করেন । তাহলে, এটা কি একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতমূলক ঘৃণা নয়?
★ প্রতিবেদনটি ওপি ইন্ডিয়া হিন্দির অনুবাদ ।
