পারমিতা দত্ত,নদীয়া,০৪ ফেব্রুয়ারী : রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বা এস আই আর এর কাজ চলছে । আর ভোটার যাচাই বাছাই করতে গিয়ে তাক লাগানোর মত তথ্য উঠে আসছে । তার মধ্যে অন্যতম হল অন্যের বাবাকে নিজের বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ঘটনা ব্যাপক আকারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে । এমনই একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নদীয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তালতলা এলাকায় । স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ কৃষ্ণ সূত্রধর জানতে পেরেছেন যে তাদের প্রতিবেশী সুকদেব সূত্রধর তার মৃত বাবাকে নিজের বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলে ফেলেছেন। বিষয়টি গত ২৫ শে ডিসেম্বর শান্তিপুরের ফুলিয়ার বিডিও-কে লিখিতভাবে জানালেও এযাবৎ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার । এখন হঠাৎ গজিয়ে ওঠা “সহদর ভাই” ভবিষ্যতে পৈতৃক সম্পত্তিতে দাবি করে বসবে কিনা এই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি ।
জানা গেছে,রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার ফুলিয়ার তালতলা পাড়ার ভোটার তালিকার ৪৩ নম্বর পার্টের ভোটার প্রাণ কৃষ্ণবাবুরা৷ তারা তিন ভাই এবং দুই বোন। প্রাণ কৃষ্ণ বাবুর বাবা নারায়ন সূত্রধর ২০১৯ সালে মারা গেছেন । অন্যদিকে একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত সুকদেব সূত্রধর ।
প্রাণ কৃষ্ণ সূত্রধরের কথায়,’সম্প্রতি আমার বাবার ডেথ সার্টিফিকেটের একটা জেরক্স কপি চাইতে আসে সুকদেব । কিন্তু এসআইআর আবহে হঠাৎ আমার বাবার ডেথ সার্টিফিকেট চাওয়ার সন্দেহ হয় । পরে খসড়া তালিকা প্রকাশ হলে দেখি এ আমার বাবাকে নিজের বাবা সাজিয়ে নাম তুলে ফেলেছে সুকদেব ।’ তিনি বলেন,’এখন যদি এসআইআর আবহে এটা সংশোধন না করা হয় তাহলে পরে আমাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে । যে এই প্রকার জালিয়াতি করতে পারে যে ভবিষ্যতে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে বসবে না তার গ্যারান্টি কোথায় ?’
গত ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখে ফুলিয়ার বিডিও-র কাছে সুকদেবের বাবার নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করেন প্রাণ কৃষ্ণ । আবেদনপত্রে তিনি লিখেছেন,’আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন । প্রাণ কৃষ্ণ সূত্রধর, জানাই সূত্রধর,বলাই সূত্রধর,গৌরী সরকার ও চায়না শর্মা ছাড়া আমাদের কোনো ভাইবোন নেই । আমাদের কিছু না জানিয়ে সুকদেব সূত্রধর নামে এক অসাধু ব্যক্তি আমাদের বাবার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটার আইডিসহ বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই ।’
প্রাণ কৃষ্ণর অভিযোগ,অঅভিযোগ দায়েরের পর ২ মাস কেটে গেলেও সুকদেবের বাবার নাম সংশোধন হয়নি দেখে আমি ফের বিডিও অফিসে যাই । কিন্তু অফিস থেকে জানানো হয় যে লিখিত অভিযোগ এখনো পর্যন্ত জমাই পড়েনি । এরপরই আমি রিসিভ কপিটা দেখাই ।’ তিনি বলেন,’যেখানে এস আই আর করে ভুয়া ভোটার খুঁজছে নির্বাচন কমিশন । সেখানে ভুয়া ভোটার ধরিয়ে দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না । বিষয়টা খুবই অদ্ভুত ।’ তার দাবি অবিলম্বে অভিযুক্ত শুকদেব সূত্রধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শুকদেব সূত্রধর জানান, ২০০৭ সালে তার ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে৷ কিভাবে প্রাণ কৃষ্ণ বাবুর বাবার নাম তার ভোটার কার্ডে এল তা তার জানা নেই। এস আই আর এর ফরম ফিলাপ প্রসঙ্গে তিনি জানান যেহেতু তার নামে এসেছে, তাই সেই অনুযায়ী তিনি ফর্ম ফিলাপ করেছেন । তবে আগামীতে তিনি প্রাণ কৃষ্ণ বাবুর বাবার নাম কাটানোর জন্য যোগাযোগ করবেন।।

