এইদিন ওয়েবডেস্ক,হুগলি,০৫ এপ্রিল : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধুমধাম করে ইফতার পার্টি ও গন নামাজের আয়োজনের পর এবারে হিন্দু উৎসবকে নিয়ে কটুক্তি করল সিপিএম । কথিত ধর্মনিরপেক্ষ ওই দলটি রামনবমীর আয়োজকদের ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন’ আখ্যা দিল । সিপিএমের এই “ভন্ডামি”র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি কটাক্ষ করেছেন,’ওদের চোখের ‘লাল’ চশমায় হিন্দুরা উগ্রবাদী আর মৌলবাদীরা নিরীহ দুর্ভাগা’ । পাশাপাশি তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন সিপিএমের বিরুদ্ধে ।
হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়ার সিপিএমের এরিয়া কমিটির একটা লিখিত বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । সুদীপ্ত সরকার,চম্পা রায়,তপন রায়,পলাশ কোনার,রওশন আলি মল্লিক সহ ৬ জনের স্বাক্ষরিত গত ৪ এপ্রিলের সেই বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘আগামী ৬ই এপ্রিল রবিবার রামনবমী। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে ঐদিন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দ্বারা এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণে আমাদের দাবি কোথাও যাতে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে তার জন্য আপনার হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।
আশাকরি উপরিউক্ত বিষয়ে স্তরূত্ব উপলব্ধি করে আপনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।’
প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘সিপিএম নেতৃত্ব ইন্ডি জোটের শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত হিন্দু বিরোধী সরকারকে সহযোগিতা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।তোষণবাজ তৃণমূলের অবস্থান অনুকরণ করে শ্রীরাম নবমী উদযাপনের আয়োজকদের ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন’ বলে আখ্যা দিচ্ছে ! বামপন্থীদের অবগত করার জন্য বলি সনাতনী হিন্দুরা উগ্র হয় না, সহনশীল হয়। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও কখনো সংখ্যার জোরে কোনো অপরাধমূলক আচরণ করে না, বরং আক্রান্ত হয়। যার নজির পশ্চিমবঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা যায়।’
তিনি আরও লিখেছেন,’এ কথা অবশ্য মার্কসবাদী কম্যুনিস্টদের মাথায় ঢুকবে না, কারণ তারা ‘সংবেদনশীলতার’ প্রদর্শনেও আমরা-ওরা করে। দু এক দিন আগে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে পার্টি কংগ্রেসের মঞ্চে কাঁধে ‘কেফিয়া’ নিয়ে সংহতির বার্তা দিচ্ছিলেন সিপিএম নেতৃত্ববৃন্দ, অথচ গত বছর থেকে ঘটে চলা বাংলাদেশী হিন্দুদের ওপর অকথ্য অত্যাচার এদের বিবেক কে নাড়াতে পারে নি, তাই ওনারা হিন্দুদের প্রতি সংহতির বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গেরুয়া উত্তরীয় পরার কথা ভাবেন নি। কারণ তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী নাস্তিক, তাদের চোখের ‘লাল’ চশমায় হিন্দুরা উগ্রবাদী আর মৌলবাদীরা নিরীহ দুর্ভাগা ।’।