এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৮ এপ্রিল : হিন্দু দেব- দেবী এবং হিন্দুত্ববাদী চিন্তাবিদ বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে সাংবাদিক রানা আইয়ুবের (Rana Ayyub) করা টুইটগুলিকে “অবমাননাকর, উস্কানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক” (derogatory, inflammatory and communal) বলে চিহ্নিত করল দিল্লি হাইকোর্ট৷ আজ বুধবার এই মামলার শুনানি হয়৷ বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার কৌরব টুইটার, সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে টুইটগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং এক্স, দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে।আদালত আজ বলেছে যে, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিতর্কিত টুইটগুলো ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবী অমিতা সচদেবার দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ জানুয়ারিতে একটি এফআইআর দায়ের করেছিল। বিষয়টি আদালতে যায় । আইনজীবী অমিতা সচদেভা আইয়ুবের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাকেত আদালতে আবেদন করেছিলেন। সচদেভার অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক আদালত আইয়ুবের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার এবং পুলিশকে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর রানা আইয়ুবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য), ২৯৫এ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং ৫০৫ (জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী বিবৃতি) ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল। যদিও বিতর্ক সৃষ্টি হলে টুইটগুলো মুছে দেন রানা আইয়ু ।
সচদেভার দাবি, আইয়ুবের টুইটগুলো হিন্দু দেব- দেবী, সীতা ও রাম, বীর সাভারকর এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদকে অপমান করেছে এবং “ভারত-বিরোধী” মনোভাব ছড়িয়েছে। সচদেবা বলেছেন,”টুইটগুলোর বিষয়বস্তু পড়ে আবেদনকারী, সনাতন ধর্মের অনুসারী হওয়ায়, গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কারণ পোস্টগুলোতে আপাতদৃষ্টিতে হিন্দু দেব-দেবী ও শ্রদ্ধেয় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অপমান রয়েছে এবং এগুলো সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে সক্ষম।”
তার আবেদনে সচদেভা ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইয়ুবের করা ছয়টি টুইটের উল্লেখ করেছেন।
২০১৩ সালে আইয়ুবের করা টুইটটিতে লেখা ছিল, “রাবণ পারলেও সীতাকে স্পর্শ করেনি। রামের উচিত ছিল সীতার পাশে দাঁড়ানো, কিন্তু তিনি দাঁড়াননি। রাবণ ১ রাম ০।”
২০১৪ সালের অক্টোবরে, আইয়ুব আলী সরদার জাফরির একটি দম্পতি উদ্ধৃত করেছিলেন যাতে লেখা ছিল, “গরিব সীতা কে ঘর পে কব তক রাহেগি রাবন কি হুকমরানি, দ্রৌপদী কা লিবাস উসকে বদন সে কব তাক ছিনা করেগা”।
এছাড়াও, ২০১৫ সালে আইয়ুব সাভারকরকে নিয়ে টুইট করেছিলেন।টুইটটিতে বলা হয়েছে, “তাহলে বীর সাভারকর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ধর্ষণের পক্ষে কথা বলেছিলেন।”
সাভারকরকে নিয়ে করা আর একটি টুইটে আইয়ুব বলেছেন, “নাথুরাম গডসের লেখা সাভারকরের বিবরণ পড়ছিলাম এবং ভাবছিলাম যে আমাদের এই সন্ত্রাসী সহানুভূতিশীলকে সম্মান জানানো চালিয়ে যাওয়া উচিত কিনা।” ২০১৬ সালে আইয়ুব মুখে আঘাতপ্রাপ্ত একটি ছেলের ছবিসহ একটি টুইট পোস্ট করেছিলেন। টুইটটিতে লেখা ছিল, “প্রিয় ভারতীয় সেনাবাহিনী, আমার ধারণা এই কিশোরটি ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য এতটাই বড় হুমকি ছিল যে তাকে সারাজীবনের জন্য অন্ধ করে দেওয়া হলো।”
আজ আদালত আদেশ দিয়েছে,“বিবাদীরা যেন নির্দেশ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তাঁরা যেন আগামীকালের মধ্যে একটি জবাব দাখিল করেন। পরশুদিন যেন বিষয়টি শুনানির জন্য ডাকা হয়। ৪ নং বিবাদী [রানা আইয়ুব]-এর পোস্ট করা অত্যন্ত অবমাননাকর, উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক টুইটগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি উপযুক্ত আদালতের নির্দেশে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । বিষয়টি জরুরি বিবেচনার দাবি রাখে। দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তাকেও ৩ নং বিবাদী (এক্স কর্প)-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি পুলিশকেও পক্ষভুক্ত করা হোক ।”আগামী ১০ এপ্রিল মামলাটির পুনরায় শুনানি হবে।।
