এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাঠমান্ডু,০৬ জানুয়ারী : বীরগঞ্জে হিন্দু-বিরোধী একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ নেপালের বীরগঞ্জে । হিন্দুরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয় । প্রতিবাদ মিছিলের উপর মসজিদ থেকে পাথর ছোড়া হলে ক্ষিপ্ত জনতা মসজিদে ভাঙচুর চালায় । কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করেছে৷ ভারত বিহারের কাছে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । নিরাপত্তার কারণে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার । এদিকে পালটা মিছিল করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা । তারা “হিন্দু ভাগাও দেশ বাচাও” শ্লোগান দেয় ।
নেপালের ধনুসা জেলার কমলা পুরসভা এলাকার দুই মুসলিম যুবক, হায়দার আনসারি হিন্দু-বিরোধী একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেয় । যার জেরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধনুসা এবং পারসা জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা ওই দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় । ভিডিওর প্রতিবাদে সখুয়া মারান এলাকায় হাজার হাজার হিন্দু মিছিল বের করলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অন্য সম্প্রদায় । পালটা প্রতিরোধে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে । শনিবার ধনুষা জেলায় যে মসজিদ থেকে প্রতিবাদ মিছিলের উপর পাথরবাজি কর হয়েছিল, সেই মসজিদে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা ।
রবিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন বীরগঞ্জে টায়ার জ্বালিয়েছে বিক্ষোভে সময় স্থানীয় পুলিশ পোস্ট ভাঙচুর করে। বীরগঞ্জে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। থানা লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। শেষমেশ প্রশাসন বীরগঞ্জে কার্ফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের আশঙ্কার মধ্যে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে নেপালের বীরগঞ্জের কিছু অংশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে । কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বিহারের রক্সৌল সংলগ্ন নেপালের বীরগঞ্জে এই অশান্তির আঁচ যাতে ভারতে না এসে পড়ে, তার জন্য তৎপর ভারতীয় প্রশাসন। সশস্ত্র সীমা বল (SSB) ভারত-নেপাল সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে। মৈত্রী সেতুতে কড়া নজরদারি চলছে। ডগ স্কোয়াড নামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সাহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা এবং সিওয়ান টোলার মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও টহল বাড়িয়েছে ভারতীয় জওয়ানরা।নেপালের এই অস্থির পরিস্থিতির জেরে বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা। দোকানপাট ও বাজার বন্ধ থাকায় এবং নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা দলে দলে ভারতে ফিরতে শুরু করেছেন।
প্রসঙ্গত,ঐতিহাসিকভাবে, ২০০৮ সাল পর্যন্ত নেপাল বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাজ্য ছিল । কিন্তু মাওবাদীদের উত্থানের পর রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলে নেপাল একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। বামপন্থীদের উদার অভিবাসন নীতির কারনে বহু এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে জনবিন্যাদের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে ।
আরএসএস অতীতে হিন্দু রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছিল, নেপালকে একটি আদর্শ হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে দেখত। আজ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে, HSS-এর মতো হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি (RPP)-এর মতো দলগুলি নেপালকে ফের হিন্দু রাষ্ট্র (জাতি) হিসেবে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বিশেষ করে তরাই সীমান্ত অঞ্চলে স্কুল, সমাবেশ এবং কর্মসূচি পরিচালনা করে, ধর্মান্তর বিরোধী আইন, গো-রক্ষা এবং হিন্দু আধিপত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ।
বামপন্থীদের অভিযোগ,ভারতের বিজেপি সরকারের অধীনে এই প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয় । খোলা সীমান্ত পেরিয়ে আদর্শিক ও আর্থিক সহায়তার খবর পাওয়া গেছে, যা মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং নেপালের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা । কিন্তু বামপন্থীদের শাসনকালে এক সময়ে ১০০ শতাংশ হিন্দু রাষ্ট্র নেপালের জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে তারা নীরব ভূমিকা পালন করে ।।

