এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৩ ফেব্রুয়ারী : মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারকে হঠাৎ অপসারণের প্রতিবাদে উপাচার্যকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন একাংশের অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মীরা । ঘটনাটাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে । বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিষ ভট্টাচার্য আইন- কানুনের তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারী শাসন চালু করেছেন ।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ডঃ বিশ্বজিৎ দাসকে হঠাৎ অপসারণ করে দেন উপাচার্য আশিষ ভট্টাচার্য । এতে চরম ক্ষিপ্ত হন বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য অধ্যাপক এবং অশিক্ষক কর্মীরা৷ অধ্যাপক সাধন কুমার সাহা বলেন,”ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডঃ বিশ্বজিৎ দাস তার ছেলের পরীক্ষার জন্য ছুটি চেয়েছিলেন । উনি ২১ শে জানুয়ারি দরখাস্ত করেছিলেন৷ সম্ভবত উনিই মার্চের ৯ তারিখ পর্যন্ত ছুটি চেয়েছিলেন । কিন্তু উপাচার্য হঠাৎ করে ওনাকে অপসারণ করে দিয়েছেন । এদিকে সরকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী বাইশে মার্চ ওনার দায়িত্ব শেষ হচ্ছে । সেই হিসেবে ওনার থাকার কথা । কিন্তু কোন কারণে ওনাকে সরিয়ে দেওয়া হলো সেটা আমরা বুঝতে পারছি না৷’
তার অভিযোগ,’উনি ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন । তারপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আইন মেনে উনি কাজ করছেন না । রাজ্য সরকারের আইনও মানছেন না । উনি ওনার স্বেচ্ছাচারী শাসন চালু করেছেন । উনি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মিটিং না ডেকে যাকেতাকে যখন তখন সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় ওনার মনমত লোক বসাচ্ছেন৷ লোক নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইন অনুযায়ী ওনাকে চলতে হবে ।’
জানা যায়,ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার বিশ্বজিৎ দাসকে হঠাৎ করে অপসারণের ঘোষণা হলে আজ শুক্রবার সকালে উপাচার্য নিজের অফিসে আসতেই অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মীরা জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন । পরে তারা উপাচার্যের ঘরে ঢুকলে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় । যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত উপাচার্যের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি। উল্লেখ্য,আগের উপাচার্য পবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সময়েও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরি হয় । তাকে সরিয়ে আশিষ ভট্টাচার্যকে ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেয় রাজ্য সরকার । কিন্তু বর্তমান উপাচার্যের সময়েও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলবস্থা যে আদপেই কাটেনি, এদিনের ঘটনায় সেটাই প্রমানিত হল ।।
