এইদিন ওয়েবডেস্ক,০৫ এপ্রিল : ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ করার আহ্বান জানিয়ে ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন বেশ কয়েকজন মৌলবী । গত ১৭ মাস ধরে গাজায় চলা ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা এ জিহাদের আহ্বান জানান।মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইউসুফ আল- কারযাভীর নেতৃত্বে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি গতকাল সব মুসলিম দেশকে ‘এই গণহত্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। ১৫ দফা দাবী সম্বলিত ওই ফতোয়ায় আলী আল কারদাঘি বলেন, ‘গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে তা ইসলামিক আইন অনুযায়ী আমাদের নিপীড়িত ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে বড় অপরাধ বলে গণ্য হবে।’ মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্ব নেতা হিসেবে পরিচিত আলী আল কারদাঘি। তাঁর ফতোয়া বিশ্বের ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলিমের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামিক আইনি আদেশকে ‘ফতোয়া’ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন ধর্মীয় নেতা সাধারণত এই ফতোয়া জারি করেন। তবে এটি মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়। কারদাঘি বলেন, ‘গাজায় মুসলমানদের নির্মূলে কাজ করছে যে কাফের শত্রু (ইসরায়েল), তাদের কোনো ধরনের সমর্থন করা যাবে না। তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এমনকি স্থল, জল বা আকাশপথে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলসীমা বা বন্দরের মাধ্যমে তাদের পরিবহনকেও সহায়তা দেওয়া যাবে না।’ কারদাঘির এই ফতোয়ায় আরও ১৪ জন কট্টর ইসলামি মৌলবী সমর্থন জানিয়েছেন। ফতোয়ায় বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে ইসরায়েরের সঙ্গে তাদের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গাজায় ‘আগ্রাসন’ বন্ধে তার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চাপ দেয়।।