প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ,বর্ধমান,২০ জানুয়ারী : বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা। রুটি রুজি জোগাড়ের জন্য কলকাতার রাজপথে রিক্সা চালান বাবা। মা ঘরে বসে করেন সেলাইয়ের কাজ। এমনই এক হতদরিদ্র পরিবারের ছাত্র চন্দন সরকারের ক্রীড়া নৈপুণ্যতায় আজ গর্বিত গোটা বাংলা।পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের জৌগ্রাম হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণীর এই ছাত্র চন্দন ৬৯ তম জাতীয় স্কুল গেমস চাম্পিয়নশিপে “ওশু সন্ডা“ (WUSHU CHMPIONSHIP 2026) প্রতিযোগীতায় ব্রোঞ্চ পদক লাভ করেছে। ছাত্রের এই সাফল্যে তাঁর বাবা-মায়ের মতোই গর্বিত স্কুলের শিক্ষকরা।
জামালপুরের জৌগ্রামের কলুপুকুর গ্রামে বাড়ি চন্দন সরকারের । তাঁর বাবা চিরঞ্জিত সরকার পরিবারের সবার অন্ন সংস্থানের জন্য কলকাতার বাড়ি ভাড়া নিয়ে থেকে সেখানেই রিক্সা চালান। মা বরুণা সরকার সাধারণ গৃহবধূ।তবে তিনি শুধু ঘরের হেঁসেল সামলেই খান্ত থাকেন না।উপার্জনের জন্য তিনি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজও করেন। চন্দনের অপর ভাই চয়ন জৌগ্রাম হাই স্কুলে একই শ্রেণীতে পড়ে।বরণা সরকার বলেন,“আমি ও আমার স্বামী আমাদের দুই ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার জন্যে কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি।ছেলে চন্দন আমাদের কে নিরাশ করেনি। জাতীয় স্কুল গেমস চাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্চ পদক লাভ করে আমার ছেলে চন্দন শুধু আমাদেরকেই গর্বিত করেনি।,চন্দন তাঁর স্কুল এবং সর্বোপরি গোটা বাংলাকে গর্বিত করেছে।
চন্দন সরকারকে এদিন ফোন করা হলে সে জানায়, ছোট বয়সেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।পরিবারে অভাব অনটন থাকলেও খেলা তিনি ছাড়েন নি।একটু উঁচু ক্লাসে ওঠার পর তিনি জেলার কালনা নিবাসী নারায়ন দাসের কাছে “ওশু সন্ডা“ ক্রীড়ার প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন।
নিজেকে যোগ্য করে তুলে স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইণ্ডিয়া আয়োজিত ২০২৫-২৬ জাতীয় স্কুল গেমস চাম্পিয়নশিপে তিনি পশ্চিমবঙ্গের হয়ে অংশ নেন।১৪ জানুয়ারি মণিপুরে প্রতিযোগীতা শুরু হয়। প্রতিযোগীতার পঞ্চম দিনে অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি মণিপুরের “খুমান লাম্পাক স্টেডিয়ামে’ অনুষ্ঠিত হওয়া “ওশু সন্ডা“ প্রতিযোগীতায় তিনি দিল্লির স্কুলের প্রতিযোগীকে হারিয়ে ব্রোঞ্চ পদক জয় করেছেন বলে জানান।মণিপুর থেকে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে চন্দন তাঁর এই সাফল্যের জন্য নিজের বাবা- মাসহ প্রশিক্ষক নারায়ন দাস এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে।
জৌগ্রাম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রাউথ এদিন বলেন,’আমাদের ছাত্র চন্দন সরকার জাতীয় স্তরে আমাদের স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। চন্দনের সাফল্যে আজ বাংলাও গর্বিত।এর আগে রাজ্য স্তরের ’ওশু সন্ডা’ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে চন্দনস্বর্ণ পদক লাভ করেছিল। চন্দন মণিপুর থেকে জৌগ্রামে ফিরলে তাঁকে স্কুলের তরফে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।জৌগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ- প্রধান সাজাহান মণ্ডল বলেন,চন্দন মণ্ডল আমাদের জৌগ্রাম এলাকার গর্ব। চন্দনের সাফল্য জৌগ্রামের অন্য স্কুলের পড়ুয়াদেরও অনুপ্রাণিত করবে।।
